জামালপুরের ইসলামপুরে জামায়াতের ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলন অনুষ্ঠিত
জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেন ছাত্র জনতার জুলাই আন্দোলনে দুই হাজার জীবনের শাহাদাত, ত্রিশ সহস্রাধিক আহত ও পঙ্গুত্বের মাধ্যমে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে আগামী ২০২৫ সাল একটি টার্নিং পয়েন্ট, জামায়াতের জন্যেও বছর টি টার্নিং পয়েন্ট।
দেশের সর্বত্র ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো জেঁকে আছে। সংস্কারে সময় লাগবে। সব সংস্কার অন্তবর্তী সরকার শেষ করতে পারবেনা। নির্বাচন সংক্রান্ত সংস্কার করে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচিত সরকার বাকি সংস্কার এগিয়ে নেবে।নির্বাচনের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্যে এ সরকারকে সময় দিতে হবে, তবে তা দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়।
তিনি ২৯ ডিসেম্বর রবিবার জামালপুর জেলার জামায়াতে ইসলামী ইসলামপুর উপজেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত উপজেলা ইউনিট দায়িত্বশীল সন্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষনে এ কথা বলেন।
ইসলামপুর উপজেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মো: ছামিউল হক ফারুকী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জামালপুর জেলা শাখার সাবেক আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সাত্তার, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক খলিলুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট আবদুল আওয়াল। আরো বক্তব্য রাখেন জেলার সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল হক জামালী, অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ, এইচআরডি বিভাগের সেক্রেটারি আশেক মাহমুদ শান্ত, বায়তুল মাল সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সামিউল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি এডভোকেট আছিমুল ইসলাম, ছাত্রশিবির সভাপতি আহমদ সালমান সহ স্থানীয় জামায়াত ও শিবির নেতৃবৃন্দ ।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক গোলাম পারোয়ার আরো বলেন এই বাংলাদেশ যারা শাসন করেছে তারা কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী, স্বৈরশাসক ছিল। তারা জনগণের সমস্ত অধিকার, বাক স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার মিডিয়ার স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাজীবন, ধর্মীয় মূল্যবোধ সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ২০১৪, ১৮ এবং ২৪ সালের ভোট দিতে পারেনি ,বাংলাদেশের মানুষ আর এরকম নির্বাচন হতে দিবে না। বিগত সরকার তথাকথিত যুদ্ধ অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বানিয়ে আমাদের নিরপরাধ পাঁচ জন শীর্ষ নেতাকে ফাসির মঞ্চে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে, হাজার হাজার লোককে গ্রেফতার করেছে।
শেখ হাসিনার হিংসাত্বক রাজনীতির প্রেক্ষিতে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তান্ডব, মানুষ হত্যা করে নিহত লাশের উপর নর্তন কুর্দনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিলো। পরবর্তীতে ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা লাভ ও কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী শাষণের পর ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ পথ খুঁজে পেয়েছে, কিন্তু লক্ষ্য এখনো অনেক দূরে। হাজারো ছাত্রজনতার রক্ত, লাখো মানুষের জেল, জুলুম ও ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর দেশ গড়ার জন্যে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্য গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে জামায়াতের মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও ইউনিট নেতৃবৃন্দকে গ্রামে গ্রামে সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তৈরি ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথি ডক্টর ছামিউল হক ফারুকী বলেন জামায়াত একটি নৈতিক সংগঠন। জামায়াতের সর্বস্তরের কর্মীদেরকে উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। তিনি ইসলামের দাওয়াত প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার আহবান জানান। ইসলামপুর উপজেলা আমীর রাশেদুজ্জামানের সভাপতিত্বে উপজেলা সেক্রেটারি আবু মুছার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
