পানিফল চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে জামালপুরের চাষিদের
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
পানিফল চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে জামালপুরের চাষিদের। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলন আর ভালো দাম পাওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।
পতিত জমিতে পানিফলের চাষ করে দিন দিন লাভের মুখ দেখছেন বলে জানিয়েছেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চাষিরা। এই ফলটি দেশে প্রথম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় চাষ হয়েছে। সব বয়সের মানুষের কাছে এই পানিফল শিঙাড়া নামে জনপ্রিয়, যা শীতের শুরুতে বাজারে ওঠে।
বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ পানিফলের গাছ পাঁচ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পানির নিচে মাটিতে শিকড় থাকে আর পানির ওপর ভাসতে থাকে পাতাগুলো। বিভিন্ন পতিত ডোবা, খাল, পুকুরের স্বল্প পানিতেই এই ফল চাষ করা যায়। নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি খেতেও অত্যন্ত সুস্বাদু। কাঁচা এবং সিদ্ধ করে দুইভাবেই খাওয়া যায়।
কৃষকদের দাবি, যেসব কৃষক পতিত জমিতে পানিফলের চাষ করে তাদের সরকার কোনো সহযোগিতা করে না। এটা লাভজনক ফসল। সরকার ও কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি পতিত জমি চাষাবাদযোগ্য হবে। এলাকার কৃষকরা বোরো ধান কাটার পর খাল, বিল, ডোবা এবং পতিত জমিতে পানিফল চাষ করেন। প্রতি বিঘা জমিতে এই ফসল চাষ করতে খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। উৎপাদন খরচ বাদে প্রতি বিঘাতে লাভ থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। অল্প টাকা খরচ করে বেশি লাভ হওয়ায় এ অঞ্চলের আবদ্ধ জলাশয়ে পানিফল চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পশ্চিমে অবস্থিত বিলগুলোতে বর্ষাকালে জমিতে যখন কোনো ফসল হয় না তখন সেসব জমিতে পানি ফলের চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। অসময়ে যখন তাদের হাতে কোনো অর্থকড়ি থাকে না, তখন এই পানি ফল বিক্রি করে কৃষকরা দৈনন্দিন সংসার চালাতে সক্ষম হচ্ছেন। এবার উৎপাদন এবং দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা খুশি।
প্রতিদিন ভোর হতেই পানিতে নেমে পানিফল সংগ্রহ শুরু করেন কৃষকরা। বিল থেকেই কৃষকদের কাছে থেকে পানিফল কিনে নিয়ে যায় স্থানীয় পাইকাররা। পানিফলকে ঘিরে দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের পাশে গড়ে ওঠেছে পানিফল বাজার। এই বাজারে জামালপুরসহ পার্শবর্তী বিভিন্ন জেলার পাইকারদের দেখতে পাওয়া যায়।
পানিফল চাষি রেজাউল করিম জানায়, পানিফল চাষে সার-কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। এর ফলে অন্যান্য ফসলের তুলনায় পানিফল চাষে চাষিদের খরচ অনেকটাই কম। পতিত জলাশয়ে পানিফলের চারা রোপণ করে শুধুমাত্র পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ বলেন, এই উপজেলায় এটি একটি ব্যতিক্রমী ফসল অন্যান্য উপজেলায় এই ফসল উৎপাদন খুব বেশি হয় না। এ বছর এই উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে পানিফল চাষ হয়েছে। এটি একটি লাভজনক ফসল। আমরা কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি এবং আশা করছি আগামীতে এই ফলের উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে।
