আলোচিতউপজেলার সংবাদবকশীগঞ্জ

আন্দোলনে নিহত বকশিগঞ্জের রিপন হত্যা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত জামালপুরের বকশিগঞ্জ পৌরসভার রিপন মিয়া হত্যা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে নিরীহদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। নিহত রিপন মিয়া পৌরসভার সিমারপাড় গ্রামের মৃত রেজাউল করিমের ছেলে।

রিপন মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, রিপন মিয়া ঢাকায় বেসরকারি একটি কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। ৫ অগাস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। পরেরদিন গ্রামের বাড়ি বাট্টাজোড় পানাতিয়া পাড়ায় তার লাশ দাফন করা হয়।

স্বামী নিহতের ঘটনায় নিজে বাদী হয়ে মামলা করতে চাইলেও তাকে কিছু না জানিয়েই তার ভাশুর আকতার হোসেন ২৬ অগাস্ট উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়। নামীয় ১৮ জনের মধ্যে বকশিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জুমান ও সমাজসেবক হাজী আমানুল্লাহসহ বকশিগঞ্জের ১৩ জনকে মামলায় আসামী করা হয়।

খাদিজা বেগম আরো বলেন, চাঁদাবাজি করার জন্যই সে মামলার বাদী হয়েছে। পুলিশের গুলিতে নিহত রিপন হত্যার সঙ্গে বকশিগঞ্জের কোনো মানুষ জড়িত না থাকলেও মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে অন্তত দুই শতাধিক মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করেছেন আকতার। ৫ অগাস্টের আগে আকতার হোসেন পরিবার পরিজন নিয়ে একটি কুঁড়েঘরে থাকতেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে আকতার হোসেন লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। পাকাবাড়ি করেছেন। ঘরে দামি আসবাবপত্র ও মোটরসাইকেল কিনেছে। এ ছাড়া তিনি প্রতিদিন তার ফেইসবুকে একেকজনের ছবি পোস্ট করে ভয়ভীতি দেখান। মূলত সমাজের উ”চ শ্রেণির মানুষদের টার্গেট করেন আকতার। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আসামি করার হুমকিও দেন।

রিপনের স্ত্রী অভিযোগ করে আরো বলেন, রিপনের নামে সরকারি বেসরকারি অনুদানের কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন আকতার। রিপনের মৃত্যুর এক মাস পরেই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টেসে চাকরি করে জীবনযাপন করছি।

আকতারের চাঁদাবাজি বন্ধ ও ন্যায় বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাসহ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন খাদিজা বেগম।

আকতার হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত নিহত রিপনের স্ত্রী খাদিজা বেগমের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *