দেওয়ানগঞ্জে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ কাজ কবে শেষ হবে কর্তৃপক্ষের কেউ জানে না
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভায় ‘নর্দান বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট(নবিদেপ)’ এর আওতায় জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার(জাইকা) অর্থায়নে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ বন্ধ থাকায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পটির কাজের মেয়াদ দেড় বছর আগে শেষ হলেও আবার কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে কবে শেষ হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ জানেন না ।
দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালের জুন মাসে ডাম্পিং স্টেশনটির নির্মান কাজ শুরু হয় ‘নর্দান বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (নবিদেপ)’ এর আওতায় এবং জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) অর্থায়ানে। প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের মেয়াদ ছিল ৩৬০ দিন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তিন একর জমি অধিগ্রহণ করে। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ৭ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯ টাকা ধরা হয়। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের তত্ত্বাবধানে ডাম্পিং স্টেশনটির নির্মাণ কাজ পায় মালিক নাহিদ আল হাসান এর র্টান কন্সট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সাব ঠিকাদার হিসাবে কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা শিপন।
জানা যায়, ডাম্পিং স্টেশনটি দেওয়ানগঞ্জের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত দেড় বছরের অধিক সময়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘র্টান কন্সট্রাকশন’ কাজ শেষ করতে পারেনি। বর্তমানে প্রকল্পটির সিভিল কাজের ৩০ শতাংশ এবং মেকানিক্যাল কাজের পুরোটাই বাকি রয়েছে। ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় গত ৫ই আগষ্ট হতে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে গা ঢাকা দিয়েছে।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানায়, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদার ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিসে বারবার তাগিদ দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন থেকে কাজ বন্ধ থাকায় স্টেশনটির নির্মাণ সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ডাম্পিং স্টেশনের নৈশ প্রহরী নুরু মিয়া জানায়, আমার নিজস্ব মিটারের বিদ্যুৎ বিলসহ ছয় মাসের বেতন বাবদ দেড় লাখ টাকা বাকি রেখে ঠিকাদার উধাও হয়েছে। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। অনেক কষ্টে জীবন পার করছি।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, প্রকল্পের এই দীর্ঘস্থায়ী বিলম্ব শুধু ঠিকাদারের ব্যর্থতার ফল নয়। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাও সমানভাবে দায়ী। ঠিকাদার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে শৈথিল্য এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রবণতা এ ব্যর্থতার মূল কারণ।
জামালপুর নাগরিক ভয়েস এর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, দেওয়ানগঞ্জের এই ডাম্পিং স্টেশন প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করতে হলে কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রকল্পের তদারকিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ শুরু করা জরুরি।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাজেদুর রহমান বলেন, ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পে ঠিকাদার অতিরিক্ত সময় নিয়েছে। এখনও প্রকল্পটির সিভিল কাজের ৩০ শতাংশ বাকি এবং মেকানিক্যাল কাজ শতভাগই বাকি রয়েছে। ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় গত ৫ই আগষ্ট হতে লাপাত্তা। এখন পর্যন্ত কাজ বন্ধ। ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছিনা। তবে খুব দ্রুত ঠিকাদারকে চিঠি ইস্যু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
