বকশিগঞ্জে ভূমি অফিসে দুর্নীতি, দুর্নীতির দায়ে কর্মকর্তা বদলি ৫ দিন পর বদলী স্থগিত এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয় গুলো। টাকা ছাড়া মিলছে না প্রত্যাশিত সেবা। সাধারণ মানুষ ভূমি সেবা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে বগারচর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। সুকৌশলে ৫ দিন পর ফের পুনর্বহাল করা হয় ওই ভূমি কর্মকর্তাকে। এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ভূমি সেবা গ্রহিতা ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের মাঝে।
জানা যায়, বকশিগঞ্জ উপজেলায় ২৫টি মৌজার জন্য ৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। সরকার ভূমি সেবাকে সহজিকরণ ও ডিজিটালাইজেশন করেছে। কিন্তু এই উপজেলায় ডিজিটালাইজেশনের নামে উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও সেবা গ্রহিতারা। ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে সেবা নিতে আসা গ্রহিতাদের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা। নিরুপায় হয়ে ঝামেলামুক্ত থাকার জন্য কর্মকর্তাদের চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে সেবা গ্রহিতাদের।
বকশিগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসই দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না এসব অফিসের কর্তাদের। সিনিয়র কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে হাতিয়ে নেয়া হয় এসব অর্থকড়ি। ভূমি কর্মকর্তাদের মনমতো টাকা না দিলেই বিভিন্ন ভুল ও কারণ বের করে নামজারি বন্ধ করে দেওয়া হয়ে থাকে। উল্টো তাদের জমিই অন্যের নামে নামজারি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয় এসব সেবা গ্রহিতাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যসহ সেবা গ্রহিতাদের হয়রানির অভিযোগে গত ৮ এপ্রিল তাকে দেওয়ানগঞ্জে বদলি করা হয়। তার স্থলে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বগারচর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে ১০ এপ্রিল যোগদান করেন।
সাজ্জাত হোসেনকে বদলির পর স্থানীয় সেবা গ্রহিতারা ঘুষের টাকা ফেরত নিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভিড় জমালে তোলপাড় শুরু হয়। এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে টাকা ছাড়া ভূমি সেবা মেলে না এমন সংবাদ প্রচারের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এদিকে অজ্ঞাত কারণে বদলির ৫ দিন পর সাজ্জাত হোসেনের বদলি স্থগিত করে বগারচর ইউনিয়নে পুনর্বহাল করা হয়। গত ১৩ এপ্রিল সাজ্জাত হোসেন বগারচর ইউনিয়নে অফিসে যোগদানের খবর পেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সাজ্জাত হোসেন কৌশলে টাকা ফেরত দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই দিনই তার প্রতিনিধি দিয়ে ঘুষ নেওয়া সেবা গ্রহিতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। অনেক ভুক্তভোগীকে আবার রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দিয়ে হুমকি দেওয়াচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাত হোসেনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, সাজ্জাত হোসেন বগারচর ইউনিয়নে যোগদানের পর থেকেই রাম রাজত্ব কায়েম করে ইচ্ছামত ঘুষ বাণিজ্য করেন। টাকা না দিলে সেবা গ্রহিতাদের নানা কারণে হয়রানি করেন। তিনি প্রতিটি নামজারির জন্য ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে নামজারি করে থাকেন। এছাড়াও অসংখ্য মানুষের কাছে ঘুষ নিয়েও নামজারি করে দেননি অভিযুক্ত সাজ্জাত হোসেন।
সাজ্জাত হোসেনের বাড়ি জামালপুর সদরে হওয়ায় এবং তার এক ভাই একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ায় সেই দাপটে যাচ্ছেতাই করেছেন। ইতোমধ্যে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগীদের কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু এতো কিছুর পরও কিভাবে তাকে পুনর্বহাল করা হয় তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে বগারচর ইউনিয়ন জুড়ে।
স্থানীয়দের ধারণা তাকে ঘুষের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দিতে সেবা গ্রহিতাদের ম্যানেজ করতে কৌশলে তাকে আবার বগারচর ইউনিয়নে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই কার্যক্রম শুরু করেছেন অভিযুক্ত সাজ্জাত হোসেন। তার ঘুষ বাণিজ্যের পেছনের শেল্টারদাতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকার মানুষের। কার ইশারায় সাজ্জাত হোসেন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তারও শাস্তি চান ভুক্তভোগীরা।
পুনবর্হালের বিষয়ে জানতে চাইলে বকশিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা জানান, তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ গুলো তদন্ত করা হবে। সেজন্য তাকে আবার অত্র ইউনিয়নে বহাল রাখা হয়েছে।
