দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা কর্তৃক বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ রুহুল আমিন রাজু জামালপুরঃ‘মাদককে না বলো, মাদকাসক্তি একটি ব্যাধি’।
মাদক নামক সংক্রামক ব্যাধি থেকে সমাজ তথা যুব সমাজকে রক্ষার স্বার্থে যে কোন মহৎ উদ্যোগকে প্রশাসন সমসময় সাধুবাদ জানায়।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা জামালপুর কর্তৃক আয়োজিত ৫নং বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নে বাহাদুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় নাজমুল হাসান, অফিসার ইনচার্জ, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর জেলার সুযোগ্য জনবান্ধন, সাংবাদিক বান্ধব ও মানবিক ভূষিত পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম-সেবা মহোদয়।
বিট পুলিশিং সভায় ৫নং বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা মাদক, জুয়া, নানা সামাজিক অপরাধের বিভিন্ন চিত্র বক্তব্যে তুলে ধরেন।
মাদকাসক্তি এক ভয়াবহ মরণব্যাধি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যে সকল সমস্যা বিদ্যমান তার একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে মাদকের ভয়াল থাবা। দিন দিন মাদকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। বর্তমানে দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাদকের কেনাবেচা হয় না। শহর থেকে শুরু করে গ্রামেও এটি সহজলভ্য।
আমাদের দেশে প্রচলিত মাদকদ্রব্যের মধ্যে ইয়াবা, গাজা, ফেনসিডিল, মদ, আফিম, হেরোইন, কোকেন, প্যাথেডিন, বিভিন্ন ধরনের ঘুমের ওষুধ, এমনকি জুতার আঠাও রয়েছে। এসব ভয়ানক নেশা জাতীয় দ্রব্য সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে গেছে। এসব মাদকের বেশির ভাগই আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার হতে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে। মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ মাদকের বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এশিয়ার গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজ নামে পরিচিত মাদক চোরাচালানের তিনটি প্রধান অঞ্চলের কেন্দ্রে বাংলাদেশের অবস্থান। তাই আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিরাও বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে সহজে ব্যবহার করতে পারছেন। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে শত শত নদ-নদী দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। মাদক চোরাকারবারিরা সমুদ্র উপকূল ও জলপথকে তাদের পণ্য পাচারের খুবই উপযুক্ত পথ হিসেবে বিবেচনা করেন। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে মাদকের রুট।
পুলিশ সুপার বলেন, মাদকের সাথে সমঝোতা না করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিতাড়িত করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ দাস, সহকারী পুলিশ সুপার (ইসলামপুর সার্কেল)/ অতিরিক্ত দায়িত্বে দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল, জামালপুর; মোঃ নাজমুস সাকিব, ওসি ডিবি-১, জামালপুর; ওসি ডিবি-২ নুরুল ইসলাম বাদলসহ বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ’সহ ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও গণমাধ্যম কর্মীর ব্যক্তিবর্গ।
