ইসলামপুরউপজেলার সংবাদজামালপুর

ইসলামপুরের চারটি গ্রাম যমুনার গর্ভে

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে যমুনাগর্ভে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে সাপধরীর চারটি গ্রাম। ভাঙন প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভয়াবহ ভাঙনে অন্তত পাঁচশতাধিক পরিবারের বসতভিটাসহ কমপক্ষে দুই হাজার একর ফসলি জমি যমুনা গর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ইসলামপুরের বেলগাছা পয়েন্টে উৎপত্তি হওয়া যমুনার শাখা নদীটি শীলদহ ও সিন্দুরতলী হয়ে সাপধরীর প্রজাপতি, নন্দনেরপাড়া, চরশিশুয়া, শিশুয়া, কাশারীডোবা, আকন্দপাড়া, মন্ডলপাড়া, চেঙ্গানিয়া, টগারচর ও দৈলকেরচর হয়ে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী এলাকার পূর্বাঞ্চল হয়ে আবারও যমুনার মূলস্রোতে মিলিত হয়েছে। এই শাখা নদীটির দুই তীরের প্রজাপতি, কাশারীডোবা, আকন্দপাড়া ও মন্ডলপাড়া এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে গত পাঁচ বছর ধরে ভয়াবহ নদী ভাঙন চলছে।

এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই সাপধরীর এই শাখা নদীটির বাম তীরের কাশারীডোবা ও আকন্দপাড়া পয়েন্টে এবং মন্ডলপাড়া পয়েন্টে যমুনার ডান তীরে ভয়াবহ নদী ভাঙন চলছে। এতে এ বছরই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে কাশারীডোবা ও আকন্দপাড়া এলাকার পাঁচ শতাধিক বসতভিটা, দুটি বাজার, চারটি স্কুল, পাঁচটি মসজিদ এবং ফসলি জমি।

অপরদিকে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী পয়েন্টে উৎপত্তি হওয়া যমুনার এই শাখা নদীটি সাপধরীর পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। সাপধরী পশ্চিম সীমানার এই শাখা নদটির ভয়াবহ ভাঙনে বিগত বন্যা মৌসুমে সাপধরী ইউনিয়নের বিশরশি গ্রামটির অন্তত দুই’শ পরিবারের বসতভিটাসহ প্রায় দুই হাজার একর ফসলি জমি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। এ বছরেও বর্ষা মৌসুম শুনু হতে না হতেই বিশরশি, মন্ডলপাড়া ও দক্ষিণ শিশুয়া এলাকায় চলছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।

সাপধরী ইউনিয়নের কাশারীডোবা গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমান চৌধুরী জানান, সাপধরীর পশ্চিম সীমানা দিয়ে প্রবাহিত শাখা নদীটির বাম তীরের ভাঙন প্রতিরোধের জন্য কোন ব্যব¯’া গ্রহণ না করা হলে এ বছরের ভয়াবহ ভাঙনে মন্ডলপাড়া, বিশরশি ও দক্ষিণ শিশুয়া গ্রাম দুটির অন্তত পাঁচশত পরিবারের বসতভিটাসহ কমপক্ষে দুই হাজার একর ফসলি জমি যমুনা গর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম মন্ডল জানান, সাপধরী ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া, বিশরশি ও দক্ষিণ শিশুয়া গ্রাম তিনটির পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনার ছোট্ট একটি শাখা নদীর বাম তীরে গত দুই বছর ধরে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। এ বছরও বর্ষা মৌসুমের আগেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।

এছাড়াও মন্ডলপাড়া গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনার অপর শাখা নদীটির ভয়াবহ ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে কাশারীডোবা, আকন্দপাড়া ও মন্ডলপাড়া গ্রামের দক্ষিনাঞ্চল।

তিনি আরও জানান, যমুনার এই শাখা নদী দু’টির ভাঙন কবলিত চারটি পয়েন্টেই অবিলম্বে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হলে নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে শত শত একর ফসলি ও বিস্তীর্ণ জনপদ।

জামালপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান জানান, ভাঙন কবললিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *