জামালপুর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটি এখন নোংরা জরাজীর্ণ এক পরিত্যক্ত স্থান

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর শহরের একমাত্র আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটি নির্মাণের পর প্রায় ৪২ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। পরিণত হয়েছে নোংরা, জরাজীর্ণ এক পরিত্যক্ত স্থানে। যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেই সাথে চালক-শ্রমিকরাও অসহনীয় পরিবেশে প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছেন।
জানা যায়, শহরের দড়িপাড়া এলাকায় ২ একর ৮৮ শতাংশ জমির ওপর ১৯৮৩ সালে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত হয় বাস টার্মিনালটি। সে সময় একতলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এরপর ৪২ বছরেও হয়নি আর কোনো উন্নয়ন কাজ।
টার্মিনালের মূল ভবনজুড়ে রয়েছে ফাটল ও ছাদ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। দেয়ালগুলো ঝুরঝুরে। কোনো যাত্রী ছাউনি নেই, নেই বিশ্রামাগার, খাবার হোটেল কিংবা শৌচাগার। পুরো এলাকাজুড়ে কাদা-পানি জমে থাকা, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ আর উন্মুক্ত নালার কারণে অসহনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছে। ভেতরে বাস প্রবেশ করে না, যাত্রীদের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে উঠতে-নামতে হয়। বৃষ্টির দিনে মাটি কাদায় পরিণত হলে চলাফেরা করাও হয়ে পড়ে দুঃসাধ্য।
কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংস্কারসহ ৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ যাত্রী ও চলাচলকারীরা।
বাস চালক ফরমান খান বলেন, বাংলাদেশের কোথাও এত নোংরা বাস টার্মিনাল দেখিনি। বিশ্রামের কোনো জায়গা নেই, খাবার নেই, গোসল তো দূরের কথা। এ অবস্থায় অনেক যাত্রী আসতেই চায় না। বিগত সরকার অনেক কিছু উন্নয়ন করেছে কিন্তু টার্মিনালের খবর কেউ নেয়নি।
ফারজানা আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, বাস থেকে নেমে ছোট বাচ্চা নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো বুঝি না। শৌচাগার নেই, বসার জায়গা নেই, ছাউনিও নেই, টয়লেট পর্যন্ত নেই নারীদের জন্য। রোদ-বৃষ্টি সব সহ্য করে রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
জামালপুরে দীর্ঘদিন ধরে বাস চালিয়ে আসা প্রবীণ চালক জহিরুল হক বলেন, টার্মিনাল উন্নয়ন না হলে পুরো জেলা শহরের পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এখান থেকে প্রতিদিন ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বগুড়া, পাবনা, বেনাপোলসহ বহু রুটে বাস চলাচল করে। অন্তত একটি আধুনিক ছাউনিযুক্ত যাত্রী প্রতীক্ষালয়, স্বাস্থ্য্যসম্মত শৌচাগার, নিরাপদ পানি ও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্খা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা গার্ড থাকা আবশ্যক।
জামালপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু বলেন, দীর্ঘদিন উন্নয়ন না হওয়ায় টার্মিনালটির বেহাল দশা হয়েছে। আমরা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮০ লাখ টাকার প্রকল্প দিয়েছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তারা এটি বড় প্রকল্প হিসেবে গণ্য করে প্রধান প্রকৌশলীর দফতরে পাঠিয়েছে। অনুমোদন পেলে টেন্ডার আহ্বান করে দ্রুত কাজ শুরু করব।
