উপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

মেলান্দহের চিনিতোলায় কাঠের ব্রিজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা

মোঃ রুহুল আমিন রাজু জামালপুরঃ জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের চিনিতোলা তালতলা বাজারের পাশেই নতুন করে তৈরী কাঠের ব্রিজের আনুষ্ঠানিক ভাবে ফিতা কেটে শুভ উদ্বোধন করেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা। এই ব্রিজটি ৩টি ইউনিয়নের সংযোগ স্থলে অবস্থিত চিনিতোলা তালতলা বাজারের পাশেই পুরাতন একটি দীর্ঘ দিনের বাঁশের সাঁকো ছিলো। সেই বাঁশের সাঁকোই দীর্ঘদিন যাবত পঁচে,ফেটে ও একেবারে ভেঙে যাওয়ায় এলাবাসীর যাতায়াতের দুঃখ, কষ্টের সীমা ছিলো না।জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সেখানে আপাতত জরুরি ভিত্তিতে জনগণের যাতায়াতের কষ্টের কথা ভেবে সেখানে নতুন করে একটি কাঠের তৈরি ব্রীজ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাঠের ব্রিজটি নির্মাণের সার্বিক তদারকি করেন ৪নং নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকবারে সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কিসমত পাশা। ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের সার্বিক সহযোগিতা করেন মেলান্দহ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর। কাঠের ব্রীজটি তৈরি করতে তাঁর নীচে আরসিসি ঢালাইয়ের অনেকগুলো খুঁটি দিয়ে তাঁর উপর কাঠের ছাউনি, লোহা,লাট, পেরাগ ইত্যাদি সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। সেখান থেকেই সেটা কাঠের তৈরি ব্রীজের স্থাপন করা হয়েছে। সেই কাঠের তৈরি ব্রীজটি মেলান্দহ উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের সংযোগ স্থলে অবস্থিত চিনিতোলা তালতলা বাজারের পাশেই, নাংলা, কুলিয়া ও মাহমুদপুরসহ ৩টি ইউনিয়নের ১৫ হাজার লোকের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই কাঠের তৈরি ব্রীজটি হলো জনগণের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। এই ব্রিজ নির্মাণ ও চালু হওয়ায় অন্তত পক্ষে ১০/১২ গ্রামের লোকজনের ভোগান্তি একেবারে লাগব হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। কাঠের তৈরি ব্রীজটি চালু হওয়ায় একদিকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাগব হলো, অন্যদিকে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র /ছাত্রীদের ভোগান্তি দূর হয়েছে এবং এলাকার কৃষক তার উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে হাট বাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় অনায়াসে বিক্রি করে তাদের চাহিদা মেটাতে পারবে। এতে করে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ উন্নয়নে কাঠের তৈরি ব্রীজের ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করবে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারী বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই চিনিতোলা কাঠের ব্রীজটি আনুষ্ঠানিক ভাবে ফিতা কেটে শুভ উদ্বোধন করেন মেলান্দহ উপজেলার সুযোগ্য মানবিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা। তিনি বলেন, প্রথমে আমাকে কিছু ছবি তুলে নিয়ে নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কিসমত পাশা আমাকে এই ভাঙা বাঁশের সাঁকোর কথা জানান, আমি ছবিগুলো দেখে সাথে সাথেই মেলান্দহ উপজেলা প্রকৌশলী শুভাশীষ রায় কে বললে তিনি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্হা নেওয়ার আজ এই কাঠের ব্রিজটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সন্ভব হয়েছে। এ সময় বক্তব্য রাখেন নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকবারের সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কিসমত পাশা। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর আগে এলাকাবাসীর দারীর প্রেক্ষিতে সেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ও আমার নিজের অর্থায়নে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছিলো।পরে সেটাকে দ্বিতীয় বারের মতো মেরামত করে বাঁশের সাঁকো থেকে বাঁশের ব্রিজের মত নির্মাণ করা হয়েছিলো। দীর্ঘদিন যাবত জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো বা ব্রিজটি একেবারে ভেঙে যাওয়ার পর আমি উপজেলা প্রশাসন কে জানালে তারা দ্রুত ব্যবস্হা নিয়ে কাঠের তৈরি একটি ব্রীজে নির্মাণ করে দেন। তবে সামনে যেন একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ করে দেন এটা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বলে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও মেলান্দহ – মাদারগঞ্জের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জননেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এ সময়
আরো উপস্থিত ছিলেন, মেলান্দহ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদা আক্তার জ্যোতি, মেলান্দহ উপজেলা প্রকৌশলী শুভাশীষ রায়, নাংলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ফজলুর রহমান, তালতলা বাজারের প্রতিষ্ঠাতা ও কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মান্নান খান দুলাল, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সহ সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ রুহুল আমিন রাজুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *