আলোচিতউপজেলার সংবাদ

জনবান্ধব বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে পদবঞ্চিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের আনন্দ মিছিল

মোঃ রুহুল আমিন রাজু নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জনবান্ধব ও গণমুখী বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের পদবঞ্চিত সাবেক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে রাজধানীতে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা বাজেটকে জনগণের স্বার্থবান্ধব বলে অভিহিত করার পাশাপাশি দ্রুত কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান।
আনন্দ মিছিলটি রাজধানীর কাকরাইল থেকে শুরু হয়ে ফকিরাপুল হয়ে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা “৩১ দফার অঙ্গীকার—বাজেট হলো চমৎকার”, “জনগণের পক্ষ থেকে—ধন্যবাদ, ধন্যবাদ”সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট ঘোষণার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না হওয়া প্রমাণ করে এটি একটি বাস্তবমুখী, জনবান্ধব ও গণমুখী বাজেট। তারা বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি আযহারুল হক মুকুল, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সমন্বয়ক আশরাফ উদ্দিন রুবেল, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ মাহবুব, সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক আক্রামুজ্জামান খান টুকন, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ কাঞ্চন এবং সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিম। সমাবেশ পরিচালনা করেন সাবেক প্রকাশনা সম্পাদক হুমায়ুন কবির। এছাড়াও বক্তব্য দেন সাবেক সম্পাদক সোলায়মান সোহেল, মুশফিকুল লেলিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পদবঞ্চিত সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক বাদল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, সাবেক সম্পাদক আব্দুল হান্নান মিয়া, সদস্য হেলাল উদ্দীন, ওমর ফারুক, জরিরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান জিয়া, উমর সানী, শহিদুল বারী, মামুন খানসহ বিপুলসংখ্যক ত্যাগী নেতাকর্মী।
বক্তারা বলেন, ২০১৩–১৪ সালের কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গ্রেফতার, মামলা, গুম, খুন ও নির্যাতনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েও যারা রাজপথে থেকে দলের পতাকা বহন করেছেন, তাদের অনেকেই আজও পদবঞ্চিত। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার ফলেই ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ সুগম হয়েছে।
তারা আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হলে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের কোনো বিকল্প নেই। তাই কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দ্রুত ঘোষণা করে পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মূল্যায়নের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দুঃসময়ের পরীক্ষিত সৈনিকদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক দল আরও ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও গতিশীল সংগঠনে পরিণত হবে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বক্তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং তাঁর সফল নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *