জামালপুর সদরে ইউপি সচিবের বদলির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল

মোঃ রুুহুল আমিন রাজু জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুর সদরের ঘোড়াধাপ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বজলুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তাকে শাস্তিমূলক বদলির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার দুপুরে ঘোড়াধাপ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গেণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তাকে বদলির দাবিতে এর আগে হত ১০ সেপ্টেম্বর জামালপুর জেলা প্রশাসক বরাবর ‘দুর্নীতিবাজ সচিব’ উল্লেখ করে এক আবেদন জমা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে কোন ফল পাননি ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, ঘোড়াধাপ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সুজন, ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি মোশারফ হোসেন শহীদুল ইসলাম, এমদাদুল হক, মনিরা খাতুন বক্তব্য রাখেন । স্থানীয় ভুক্তভোগী জনতা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘোড়াধাপ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. বজলুল হক একজন দুর্নীতিবাজ, চরিত্রহীন, ক্ষমতার অপ-ব্যবহারকারী, অসদাচরণকারী ও দায়িত্বে গাফেলতি প্রকৃতির লোক। অফিসের কাজের বিভিন্ন অযুহাত দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন তিনি। আবার অনেক সময় রাতে একাই অফিস করেন। ফলে আমরা ইউনিয়নবাসী প্রয়োজনে তাকে না পেয়ে বিভিন্ন রকমের ভোগান্তি পোহাতে হয়।
তারা আরো জানান, ইউপি সচিব বজলুল হক একজন চরিত্রহীন লোক। মহিলাদের সাথে আত্মীয় বানিয়ে তাদের বাডিতে দিনে-রাতে যাতায়াত করে এবং অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করেন। মহিলাদের সাথে ইউপি সচিবের কার্যকলাপে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের মান-সম্মান ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে আমরা অভিযোগ করলে চেয়ারম্যানও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বয়স্ক ভাতাভোগী, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী, বিধবা ভাতাভোগী কেউ মারা গেলে প্রতিস্থাপনের বেলায় সচিবের মাধ্যমে করতে হয়। এর জন্য সচিবকে মোটা অংকের টাকাও দিতে হয়। চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাথে কোন আলোচনা না করেই এলজিএসপি, এডিপি, টিআর, কাবিটা ইত্যাদি প্রকল্পের তালিকা নিজেই দিয়ে থাকেন এবং নিজের মতো প্রকল্প কমিটি করে কাজের নামে যা ইচ্ছা তাই করে থাকেন। সুযোগ বুঝে মেম্বারদের ডেকে এনে এক এক করে স্বাক্ষর নেন। আগের বছর এলজিএসপি প্রকল্পকে পরের বছর এডিপির প্রকল্পের তালিকা দিয়েও টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। ভিজিএফ, ভিজিডি, টিসিবি ইত্যাদি বন্টনের সময় সচিবকে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মতো কোঠা দিতে হয়। প্রতিবারে ভিজিএফ ১০০টি, টিসিবি ৫০টি করে স্লিপ না দিলে তিনি বন্টনে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন। ভিজিএফ বিক্রি করে টাকা নেন আর টিসিবির মাল উঠিয়ে কিছু বাসায় নেন এবং বাকিটা বিক্রি করে দেন। ৩০ দিনের কর্মসূচীর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজমান। তাকে নির্দিষ্ট একটা পার্সেন্টেজ না দিলে শ্রমিকদের বিল প্রস্তুতে টালবাহানা করেন তিনি। সম্প্রতি ইউপি সচিব বজলুল হক তার পরিষদের ভিজিডি বরাদ্দের ১২ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
