উপজেলার সংবাদজামালপুরসরিষাবাড়ি

সরিষাবাড়িতে লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচার, হামলা-হুমকিতে বন্ধ চাষাবাদ

কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:

সরিষাবাড়ীর আওনা ইউনিয়নের চন্দনপুর চরে লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারে চাষাবাদ করতে পারছেন না বাদীপক্ষের লোকজন। চরে গেলেই হুমকি-ধমকি ও হামলা করে ভূমিদস্যুরা। বৃহস্পতিবার দুপুরেও ভুট্টাক্ষেতে সার দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন কয়েকজন। হামলা থেকে বাঁচতে নদী সাঁতরে বাড়ি ফেরেন ভুক্তভোগীরা। ভূমিদস্যু আব্দুর রশিদ, বাবলু, ফিরোজ মিয়া, বাদশা মিয়া ও তাদের লোকজনের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে।

পিংনা ইউনিয়নের মৃত শুক্কুর মণ্ডলের ছেলে সুরুজ মিয়ার পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে আওনা ইউনিয়নের চন্দনপুর চরে। প্রায় দুই মাস আগে জমি পরিমাপের কথা বলে তাদের চরে ডেকে নেওয়া হয়। শত্রুতার জেরে সেখানে তাদের ওপর হামলা করে আব্দুর রশিদ, বাবলু, বাদশা মিয়া ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনী। হামলায় আহত কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় সরিষাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়। এর পর চরে গেলে বাদী সুরুজ মিয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় আসামিরা। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে আসামিরা।

জানা গেছে, ভূমিদস্যুরা দুর্গম চরে বসতবাড়ি গড়ে তুলেছে। জমির মালিক সুরুজ মিয়াকে যমুনা নদী ও কয়েক কিলোমিটার বালুর চর পাড়ি দিয়ে চাষাবাদ করতে হয়। এ সুযোগে গত বছর সুরুজ মিয়ার জমির পাকা ভুট্টা কেটে নেয় ভূমিদস্যুরা। জমিটি নিজেদের দাবি করে আওনা ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) অভিযোগ দেয় অভিযুক্তরা। তবে শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণ হাজির করতে না পারায় সুরুজ মিয়ার পক্ষেই রায় দেন ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন।

এসব ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরেও আব্দুর রশিদ, বাবলু, ফিরোজের নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ২৫ থেকে ৩০ জন হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে নদী সাঁতরে বাড়ি ফেরেন হামলার শিকার নজরুল ইসলাম, আবু সাঈদ, মিজানুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম।

হামলার শিকার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আব্দুর রশিদের লোকজন হামলা করতে এলে আমরা দৌড়ে পালিয়ে আসি। এর পর চরে থাকা আমাদের একটি ঘর ভাঙচুর করে হামলাকারীরা।’

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ জানান, বৃহস্পতিবার হামলার ঘটনা তাঁর জানা নেই। যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে ওইসব জমি। কাগজপত্র না থাকায় বারবার বিবাদ হচ্ছে।

হামলার শিকার সুরুজ মিয়া বলেন, ‘আমার বাপ-দাদার পৈতৃক সম্পত্তির দলিল, আরওআর, সিএস, বিআরএস সব থাকা সত্ত্বেও দখল করার চেষ্টা করছে ভূমিদস্যু আব্দুর রশিদ ও তার দলবল।’ তাঁর অভিযোগ, কয়েক দিন আগে হাজিরা দিতে গিয়ে আদালত চত্বরেও হুমকি-ধমকি দেন রশিদ। এ কারণে চরে যেতে পারছেন না তিনি।

সরিষাবাড়ী থানার ওসি মুশফিকুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সুরুজ মিয়া। আসামিরা জামিনে এসে বাদীর লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ বিষয়ে একটি জিডিও করেন সুরুজ মিয়া। চরাঞ্চলের কারণে আসামি গ্রেপ্তার করতে সময় মতো যাওয়া সম্ভব হয় না। বৃহস্পতিবার ফের হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *