জামালপুরে সরিষার ফলনে কৃষকের চোখে মুখে আনন্দের আভা
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠে এখন হলুদের ঢেউ। সরিষার এই ফলনে কৃষকের চোখেমুখে আনন্দের আভা ফুটে উঠেছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়- ফসলের মাঠগুলো সরিষা ফুলের হলুদ রঙে অপরূপ শোভা ধারণ করেছে। মাঠে পরিচর্চার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় ফুলের মিষ্টি গন্ধে মাতাল হয়ে চারদিকে গুন গুন শব্দে গান গেয়ে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছিরাও।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জামালপুরের সাত উপজেলায় ৪১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। গতবার ৪১ হাজার ১২৬ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল।
একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহকাল ধরে সরিষা ফুল ফুটতে শুরু করেছে। আরও অন্তত এক মাস ফুল থাকবে। দুই মাসের মধ্যেই সরিষা তোলা যায়। দেশীয় সরিষার জাতগুলোর চেয়ে উন্নত জাতগুলোর ফলন বেশি হয়। গত বছরের সরিষার দাম ভালো ছিল। মনে হচ্ছে এ বছরেও দাম ভালোই হবে।
বকশিগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা এলাকার কৃষক শাহজামাল বলেন, বেড়ে ওঠা গাছ আর ফুল দেখে বেশি ফলনের স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার কৃষকেরা। এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এক বিঘায় ফলন পাওয়া যায় পাঁচ-সাত মণ। প্রতি মণ সরিষার বাজারমূল্য দুই হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর প্রত্যেক চাষি বেশি মুনাফা লাভ করবে।
মেলান্দহ উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, আমন ছাড়াও জমি থেকে সরিষা ওঠার পর ওই জমিতে প্রচুর বোরোর আবাদ করা যায়। এতে কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায় ও বোরোর ফলন ভালো হয়। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি পরিমাণ সরিষার চাষ হয়েছে। এ বছর সরিষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ হাজার ১২০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৭ হাজার ১০০ হেক্টর। কৃষকেরা অধিকাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) বারি-১৪, বারি-৯, বিনা-৯/১০, সরিষা-১৫, সোনালি সরিষা (এসএস-৭৫) ও স্থানীয় টরি-৭ আবাদ করে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা বলেন, গত বছরের থেকে এবার সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম, তা অর্জিত হয়নি। কৃষকেরা দিন দিন সরিষা চাষের বদলে ভুট্টা চাষেও বেশি আগ্রহী হচ্ছে। আশা করছি, এ বছর সরিষার ভালো ফলন হবে। এতে কৃষকরাও লাভবান হবে।
