জামালপুর-১ গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের উদ্বোধন
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্যাসের সংকট কমাতে আগামী দুই বছরে সারা দেশে ১০০টি নতুন গ্যাস কূপ খনন করা হবে। এ ছাড়া পুরোনো ৩১টি গ্যাস কূপ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ ছাড়া গ্যাস মজুতের জায়গার স্বল্পতা থাকায় বৃহৎ আকারে আমদানি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। তাই সরকার মজুতের জায়গা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আর জামালপুরে এই প্রকল্পে গ্যাস পাওয়া গেলে তা যমুনা সার কারখানায় প্রদানের কথা জানান তিনি।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে শুক্রবার দুপুরে জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের উদ্বোধনের পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে নতুন আবাসিক সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে না। আর যারা অর্থ দিয়েছেন তারা সেই অর্থ ফেরত নিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জানা গেছে, পেট্রোবাংলার রূপকল্প-৩ প্রকল্পের আওতায় মাদারগঞ্জ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৭ সালে তারতাপাড়া এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ১৬৭ কোটি টাকার ওই প্রকল্পে প্রায় ৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন এবং লিংক রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষে আজারবাইজানের গ্যাস কূপ খনন প্রতিষ্ঠান সকার (স্টেট ওয়েল কোম্পানি অব দ্যা আজারবাইজান রিপাবলিক) খনন কাজ না করে চলে যায়। এ অবস্থায় দীর্ঘ সাত বছর পর জামালপুর-১ নামে প্রকল্পের আওতায় দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে শুক্রবার এই প্রকল্পের খনন কাজ উদ্বোধন করা হয়।
বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানান, এক্সপ্রেশন ব্লক-৮ এর জামালপুর-মাদারগঞ্জ এলাকায় ১৯৮৪ সালে সংগৃহীত সাইসমিক উপাত্ত থেকে সর্বপ্রথম লিড/প্রসপেক্ট এর ধারণা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০১৪-১৫ মাঠ মৌসুমে উক্ত এলাকায় দ্বি-মাত্রিক সাইসমিক জরিপ এবং ২০১৫-১৬ সালে ক্লোজ-গ্রিড সাইসমিক সার্ভে সম্পন্ন করা হয়। প্রায় ৩ হাজার মিটার খননের পর ৪০০ বিসিএফ গ্যাস পাওয়া গেলে ভোক্তা পর্যায়ে এর বাজার মূল্য দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। আর জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যুক্ত হবে ১০ এমএমএম সিএফ গ্যাস।
জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শোয়েব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান, মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির শাহ্, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েদা খানম লিজা, মাদারগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমানসহ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনের আগে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স-এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়েব ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মশিউর রহমান।
জামালপুরের এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৮ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের দিকে খনন কার্যক্রম শেষ হবে। এ কূপ থেকে দৈনিক ১০ এমএমএসসিএফ গ্যাস উত্তোলিত হবে বলে আশা করা যায়। গ্যাস পাওয়া গেলে আনুমানিক ২৫-৩০ বছর গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। এ কূপে গ্যাস প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে শেরপুর ও ঘাটাইলে আরও তিনটি কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
