বকশিগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কান্ড ! ফেসবুকে পরিচয়, তারপর প্রেম, অতপর বিয়ে এরপর অন্ত:সত্ত্বা শেষে তালাক
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
ফেসবুকে পরিচয়, তারপর প্রেম, অতপর বিয়ে এরপর অন্ত:সত্ত্বা। এ খবর শুনে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের বকশিগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক ও পৌর এলাকার টিকরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে শুক্রবার সকাল ১০ টায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন শেফালী বেগম (৩৮) নামে এক নারী।
পৌর এলাকার মাঝপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে শেফালী বেগম বলেন, ২০২৩ সালে জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় টিকরকান্দি গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুনের সঙ্গে তার ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে মামুন শেফালীকে বিয়ের কথা বলে তাকে দেশে ফিরে আসতে বলেন। মামুনের কথায় গত বছরে দেশে আসার পর ২৪ জুন কাবিনমূলে বিয়ে হয়। শেফালী বিয়ের পর জানতে পারে মামুন বিবাহিত এবং তাকে মামুনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে মামুন বাড়িতে না নিয়ে উল্টো ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেন এবং বাচ্চা নিতে বলেন। এক পর্যায়ে শেফালী অন্ত:সত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি মামুন জানতে পেরে পেটের বাচ্চা নষ্ট করতে বলেন। শেফালী বাচ্চা নষ্ট করতে না চাইলে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তাকে গোপনে তালাক দিয়ে তালাকনামা পাঠিয়ে দেন।
এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইলে লোক মারফতে খবর পেয়ে গত ১ জানুয়ারি মামুন আবারও তাকে শ্রীবরদী উপজেলার এক কাজীর মাধ্যমে বিয়ে করে। শেফালী জানতে পারে এই কাবিনটিও ছিল ভুয়া। এভাবেই মামুন বার বার প্রতারিত করে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। শেফালী বর্তমানে ৪ মাসের অন্ত:সত্ত্বা।
এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন শেফালী বেগম বলেন, তিনি স্বামীর অধিকারসহ অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চান।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন তালাক দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন কিন্তু টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বকশিগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, এ ঘটনায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
