উপজেলার সংবাদবকশীগঞ্জ

বকশিগঞ্জে ফের বাবুল চিশতি শিল্প পার্কে চুরি আটক-১ বার বার লুটপাটের ঘটনায় নজর নেই প্রশাসনের

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের বকশিগঞ্জে বাবুল চিশতি শিল্প পার্কের মালামাল চুরির ঘটনায় সাজু মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বকশিগঞ্জ থানা পুলিশ। সোমবার সকালে পৌর শহরের চাউকাউরিয়া পশ্চিমপাড়া বাবুল চিশতি শিল্প পার্কে এঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল বাবুল চিশতি শিল্প পার্কের প্রতিষ্ঠাতা মাহবুবুল হক বাবুল চিশতি দুদকের মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর থেকে রাতের আঁধারে বাবুল চিশতি শিল্প পার্কের ভেতরে একের পর এক যন্ত্রাংশ ও মালামাল চুরি হয়ে যায়। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় লুটের মহোৎসব চলে বাবুল চিশতির শিল্প পার্কে। এসময় শিল্প পার্কের ভেতরে বকশিগঞ্জ জুট মিলের মহামূল্যবান কোটি কোটি টাকার মেশিন, যন্ত্রনাংশ রাতে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

সোমবার সকালে ওই শিল্প পার্কের কিছু মালামাল চুরি করে স্থানীয় একটি পুকুরে ফেলে দেওয়ার সময় স্থানীয় এলাকাবাসী সাজু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পরে দুপুরে বকশিগঞ্জ থানা পুলিশ পুকুর থেকে চোরাই মালামাল উদ্ধার করে এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতে আটক সাজু মিয়াকে আটক করা হয়।

জনতার হাতে আটকের সময় সাজু মিয়া জানান, তিনি মিলের পাশের বাসিন্দা লাল ফকির নামে ব্যক্তির কাছ থেকে মালামাল গুলো ক্রয় করেছেন। পরে লাল ফকিরের পরামর্শে তারই পুকুরে মালামাল গুলো ডুবিয়ে রাখা হয়।

বকশিগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, বাবুল চিশতি শিল্প পার্কে চুরির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট বাবুল চিশতি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতরে জুট মিলের মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও মালামাল ট্রাকে করে পাচারের সময় তিনটি ট্রাক জব্দ করে সেনা বাহিনী ও থানা পুলিশ। এসময় ট্রাকের তিন চালক ও চালকের তিন সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ ছাড়াও যন্ত্রাংশ বোঝাইকৃত তিনটি ট্রাক জব্দ করে।

বার বার লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় একটি চক্র বাবুল চিশতির জুট মিলের প্রায় শত কোটি টাকার যন্ত্রাংশ ও মালামাল পাচার করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কারা এই লুটপাটের পেছনে দায়ী তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও জুট মিলের সাবেক কর্মচারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *