আলোচিতউপজেলার সংবাদজাতীয়জামালপুরমাদারগঞ্জ

প্রাকৃতিক গ্যাসের খোঁজ মেলায় আনন্দে ভাসছে তরতাপাড়ার মানুষ

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম তারতাপাড়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় দেশি জ্বালানির উৎস অনুসন্ধানে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্যে ২০২৪-২০২৬ অর্থবছরে সরকার মোট ৫০টি কূপ অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভার কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তারই অংশ হিসেবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন বাপেক্স এক্সপ্লোরেশন ব্লক-৮ এর জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে ১৯৮০ সালের সাইসমিক জরিপ, ২০১৪-১৫ সালের সাইসমিক জরিপ ও ২০১৫-১৬ সালের ক্লোজ গ্রিড সাইসমিক জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে ‘জামালপুর-১ অনুসন্ধান’কূপটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কূপ খননের কাজ শুরু হয়। বাপেক্সের প্রকৌশলী, শ্রমিকসহ ২২০ জন ব্যক্তি খনন কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। বাপেক্স আশা করছে, তরতাপাড়ায় সফলতা পাওয়া গেলে যমুনা নদীর অপর পাড়েও গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হবে।

বাপেক্স আরো আশাবাদী, প্রত্যাশিত হারে গ্যাস পাওয়া গেলে কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৭’শ কোটি টাকা হতে পারে।

এদিকে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নিজ এলাকায় গ্যাসের খোঁজ মেলায় আনন্দে ভাসছে তরতাপাড়ার মানুষ। ¯’ানীয়রা বলছেন, এ প্রকল্প শুধু জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে না বরং এ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন দরজাও খুলবে।

জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, কূপটি ২ হাজার ৬’শ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪’শ ৪১ থেকে ১ হাজার ৪’শ ৪৫ মিটার স্তর থেকে ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন পিএসআই চাপে গ্যাস নির্গত হ”েছ। ওই স্তরের ওপরে আরও একটি স্তর রয়েছে। সেখানেও গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় গ্যাসের মজুত সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে তেল বা অন্য কোনো খনিজ পদার্থের উপস্থিতিও পরীক্ষা করে দেখা হবে।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতা ও বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য সময় লাগে। সঠিক বিশ্লেষণ শেষে জানা যাবে গ্যাস উত্তোলনের প্রকৃত সম্ভাবনা।’

উল্লেখ্য ২০১৭ সালে গ্যাস অনুসন্ধান প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। সেই কাজটি পায় আজারবাইজানের প্রতিষ্ঠান সকার। তবে খনন কাজ শেষ না করেই চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর দীর্ঘ সাত বছর পর চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি জামালপুর-১ নামে কূপটির খনন কাজ উদ্বোধন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিন মাস কূপ খনন শেষে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *