উপজেলার সংবাদজামালপুরমাদারগঞ্জ

আশ্বাস মিললেও দীর্ঘদিনেও ভাগ্যে জোটেনি আনোয়ারার বয়স্ক ভাতার কার্ড

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বীর পাকেরদহ এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারার ৭৮ বছর বয়সেও জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড। জীবনের শেষ সময়ে একটু স্বচ্ছলতার আশায় বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ধরনা দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। আশ্বাস মিললেও দীর্ঘদিনেও কেউ তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি।

জানা গেছে, মাদারগঞ্জ পৌরসভার কামারপাড়া এলাকার মৃত আহজ্জলের স্ত্রী আনোয়ারার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্মতারিখ ১৯৪৭ সালের ১ আগস্ট। সেই হিসাবে তার বয়স প্রায় ৭৮ বছর। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২ বছর এবং পুরুষের বয়স সর্বনিন্ম ৬৫ বছর।।

প্রায় ৪২ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন বৃদ্ধা আনোয়ারা। স্বামীর রেখে যাওয়া একমাত্র বাড়ির ভিটা সেটাও বিক্রি করে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেন উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বীর পাকেরদহ এলাকায়। মেয়ের বিয়ের পর বিধবা আনোয়ারা মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ১৯ বছর আগে সেই মেয়েও মারা যায়। মেয়ের জামাই অন্যত্র বিয়ে করায় আনোয়ারা একা হয় পড়ে। এরপর থেকেই মানুষের বাড়িতে কাজের বিনিময়ে পাওয়া দুমুঠো খাবার খেয়ে কোনোরকম দিন পার করছেন ৭৮ বছরের বৃদ্ধা আনোয়ারা। বয়সের ভারে আগের মতো কাজ-কর্ম করতে পারছেন না। প্রতিবেশীরা যা খাবার দেয় তা খেয়েই কোনো রকম দিনপাত করছে। বার্ধক্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন তিনি। চিকিৎসা দূরের কথা তিন বেলা খাবার জোটানোও তার পক্ষে কষ্টকর।

বৃদ্ধা আনোয়ারা বলেন, স্বামী, সন্তান, জায়গাজমি কিছুই নাই। এইহানে অন্যের বাড়িতে থাকি। মাইনষে আমারে খাওন-দাওন দেয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেইক্যা খুব কষ্টে আছি। অ্যাকটা ভাতার কার্ড পাইলে খুব উপকার হইতো।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক বলেন, বৃদ্ধা আনোয়ারা বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। তার আবেদনের সঙ্গে মোবাইল নম্বর না থাকায় ভাতা পায়নি। দ্রুত তাকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *