আলোচিতউপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

আদালতে মামলা করায় মেলান্দহ মাদ্রাসার নির্বাচন স্থগিত

জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার কোনামালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদ্রাসার
নিয়নমিত ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে ভূয়া ভোটার তালিকা তৈরি করা, অযোগ্য প্রিজাটিং অফিসার নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করায় উক্ত আদালত কর্তৃক নির্বাচন স্থগিত ও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। মামলার সূত্রে জানা গেছে কোনা মালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন কে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার সুপার ও কতিপয় শিক্ষকদের যোগসাজশে ভূয়া ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি দেখাইয়া ভূয়া ভোটার তালিকা তৈরি করে ম্যানিজিং কমিটির নিয়মিত নির্বাচন করার চুড়ান্ত প্রস্তুতি চলছিল। অপরদিকে নির্বাচন কে কেন্দ্র করে, অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ আব্দুল বারেক প্রতীক নং -২ উক্ত নির্বাচনে ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান,যে ইবতেদায়ীতে তেমন কোন বৈধ ছাত্র -ছাত্রী নেই, তারা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তিকৃত ছাত্র -ছাত্রীদের অভিভাবকদের কে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাহা আইনগতভাবে অবৈধ ও জালিয়াতির সামিল। তাই অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থী আব্দুল বারেক গত ১৭/০৭/ ২০২৫ ইং তারিখে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত মেলান্দহ,জামালপুরে একটি অন্য প্রকার মোকাদ্দমা দায়ের করেন যাহার মোকাদ্দমা নং -১৬৯/২০২৫ ইং সন। মোকাদ্দমা দায়েরের পর আদালত কর্তৃক কারণ দর্শানোর নোটিশ /জবাব W/O দাখিলের পূর্বে নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মোঃ আব্দুল বারেক আরো জানান, ইতিপূর্বে থেকে ইবতেদায়ীসহ মাদ্রাসার অন্যান্য ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রী কম থাকলেও মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় ভূয়া ছাত্রছাত্রী দেখাইয়া নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করতেছেন মাদ্রাসার সুপার, শিক্ষক, কর্মচারীবৃন্দ।এখানে আরো উল্লেখ্য যে,অত্র মাদ্রাসার ইবতেদায়ী অর্থাৎ ১ম শ্রেণি হইতে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত অত্র মাদ্রাসায় তেমন কোন ছাত্রছাত্রী নাই এবং ৪৪ জন ভূয়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন যাহা বেআইনি ও অন্যায় এবং ৪৪ জন অভিভাবকের কোন সন্তানাদি অত্র মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে না। এছাড়াও নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন করতে হলে সরকারি বিধি মোতাবেক বা কারিকুলাম অনুযায়ী মাদ্রাসার নির্বাচনের প্রিজাটিং অফিসার নির্বাচনের বিষয় একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হতে হবে। এখানে একাডেমিক সুপার ভাইজার প্রিজাইটিং অফিসার অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মহামান্য হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশনে রায় প্রদান থেকে জানা গেছে। যাহার রিট পিটিশন নং২৬৫১/২০২০ তারিখ ১২,/১১/২০২০ ইং সনে কেজামিয়া দাখিল মাদ্রাসা রংপুর মিঠাপুকুর। সেই রিট পিটিশনে একাডেমিক সুপার ভাইজারকে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত করে রায় দেন মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি মোঃ খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মোঃ মাহমুদুল হাসান তালুকদার একটি দ্বৈত হাইকোর্টের বেঞ্চ তারিখ ৩১/৮/২০২১ইংসন। এছাড়াও কোনা মালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শফিকুর রহমান ও সুপার রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় মেলান্দহ,জামালপুর স্মারক নং-উপশিঅ/মেলা /জামাল/২০৩-৮৩(৭) তারিখ ২৪/০৭/২০২৩ ইং সন মেলান্দহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজাদুর রহমান ভূইয়া একটি স্বাক্ষরিত পত্রে তদন্ত করে প্রতিবেদনে সদয় অবগতির ও কার্যার্থে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ঢাকা, উপপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ময়মনসিংহ অঅঞ্চল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেলান্দহ,জামালপুর, জেলা শিক্ষা অফিসার জামালপুরসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপিসহ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, গত ২০ জুন/২০২৩ সকাল ১১ঘটিকায় সময় কোনা মালঞ্চ আমেনা দাখিল মাদ্রাসাটি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজাদুর রহমান ভূইয়া সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সহকারী মোলভী শফিকুর রহমান এর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্ত করেন।পরিদর্শন কালে প্রতিষ্ঠানের সমষ্ঠিক মূল্যালয় পরীক্ষা চলছিলো। শিক্ষক হাজিরাখাতা পর্যবেক্ষণে ূদেখা যায় যে,সহকারী মৌলভী শফিকুর রহমান ২৩/০৫/২০২৩ খ্রীঃ তারিখ থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ বিষয়ে উক্ত মাদ্রাসা সুপার রিয়াজুল ইসলামের নিকট কারণ জানতে চাইলে৷ তিনি জানান যে উক্ত শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। ছুটির দরখাস্ত পর্যবেক্ষনে দেখা যায় যে,শফিকুল রহমান আরব আমিরাতে যাওয়ার জন্য সুপার বরাবর আবেদন করেছেন কপি সংযুক্ত করেন, যাহাতে তিনি ২৩/০৫/২০২৩ থেকে ১০/০৭/২০২৩ তারিখ পর্যন্ত মোট ৪৯ দিন যাবৎ ছুটি চেয়েছেন।সুপার মহোদয় উক্ত আবেদনে ছুটি
মন্জুর করা হলো মর্মে আবেদনে স্বাক্ষরসহ সীল দিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে শিক্ষক কর্মচারীরা জানান যে তিনি, হজ্জ পালনের জন্য ছুটিতে গেছেন কিভাবে গেছেন তা তাহারা জানেন না। এ বিষয়ে অত্র মাদ্রাসার সভাপতি মোহাম্মদ মুসা জানান,যে শফিকুর রহমান পবিত্র হজব্রত পালনে সৌদি আরবে রয়েছেন বলে শেনেছেন অথচ তিনি আরব আমিরাতে জাবেন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ম্যানেজিং কমিটির কাছ থেকে কোন ছুটির আবেদন করেন নি বা চায়নি।তিনি সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ম্যানেজিং কমিটিকে অবগত না করে শুধু মাত্র সুপার সাহেব কে বলে ৪৯ দিনের জন্য বাহিরে চলে গেছেন। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার রিয়াজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন ছুটি রেজিস্ট্রার দেখাতে পারিনি এবং কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। কমিটির সদস্যগণ ও প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক কর্মচারীগণ জানান যে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান সুপার রিয়াজুল ইসলাম দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবৎ মানষিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছেন। তিনি ভালোভাবে কথা বলতে পারেনা প্রতিষ্ঠানে আসেন, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেন, বসে থাকেন তিনি প্রশাসনিক ও একাডেমিক কোন কার্যক্রম করতে পারে না। এতে প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনার মান খুবই খারাপ হচ্ছে। উল্লেখ্য যে প্রতিষ্ঠানটি ২০/১১/২০২২ খ্রীঃ তারিখ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছিল উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনে সুপার রিয়াজুল ইসলাম কে কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল।এ বিষয়ে অদ্যাবধি সুপার সাহেব কোন অগ্রগতির জবাব প্রদর্শন করেন নি-যাহা চাকুরির নিয়ম বহির্ভূত ও অপরাধের সামিল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজাদুর রহমান ভূইয়া তার তদন্ত পর্যালোচনায় জানা গেছে শফিকুর রহমান গত ২৩/০৫/২০২৩ থেকে ২৭ /০৫/২০২৩ পর্যন্ত মোট ৪৯ উনপঞ্চাশ দিনের ছুটি সুপারের কাছে চেয়েছেনএবং তিনি ছুটি মন্জুর করেছেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বিধিমালা ১৯৭৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধান শুধু মাত্র নৈমিত্তিক ছুটি একাধারে ০৭ দিনের বেশি দিতে পারে না। কিন্তুু শফিকুর রহমানের ছুটির বিষয়ে তাকে ৪৯ দিনের ছুটি দিয়েছেন সুপার রিয়াজুল ইসলাম।বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্জিত ছুটি নিতে হলে ছুটিদানকারী হলো ম্যানেজিং কমিটি। সার্বিক পর্যালোচনা করে দেখা যায় শফিকুর রহমানের দীর্ঘ ৪৯ দিনের অননুমোদিত ছুটি বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষকগণের চাকুরির শর্তে বিধিমালা ১৯৭৯(১১) এর পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে প্রতিয়মান হয়েছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় সেহেতু প্রতিষ্ঠান প্রধান দীর্ঘদিন যাবৎ গুরুতর অসুস্থ এমতাবস্থায় তাঁকে চিকিৎসাজনিত ছুটি দেওয়া যেতে পারে এমন মন্তব্য করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজাদুর রহমান ভূইয়া। তাই এলাকাবাসীসহ মাদ্রাসার শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্য অত্র মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শফিকুর রহমান ও ভারসাম্যহীন সুপার রিয়াজুল ইসলামের নানান অনিয়ম দুর্নীতি প্রতিকারের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *