বন্দরৌহা ব্রীজের কাঠের এপ্রোচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ২উপজেলার মানুষ

মোঃ রুহুল আমিন রাজু ষ্টাফ রিপোর্টার জামালপুরঃ বিগত ২০২৪ সালের জুলাই মাসের বন্যার প্রবল স্রোতের কারনে যমুনা নদীর শাখা মাদারদহ নদীর দক্ষিণে কয়েক কিলোমিটার দূরে এসে শাহীন বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এখানে এসে পতিত হয়ে নামকরণ হয়েছে কাটাকালী বারোমাসী নদী বা বন্দরৌহা নদী নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে এই নদী। এই বন্দরৌহা শাহিন বাজার সংলগ্ন বন্দরৌহা নদীর উপর নির্ণাধীন ব্রীজের এপ্রোচ ভেঙে যাওয়ায় সেখানে কাঠের তৈরি সংযোগ এপ্রোচ দিয়ে ব্রিজের উপর ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ওই দুই উপজেলা অর্থাৎ মেলান্দহ – মাদারগঞ্জের বসবাসরত প্রায় ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ। জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের বন্দরৌহা গ্রামের পাশেই অবস্থিত শাহীন বাজার। শাহীন বাজারের সাথেই অবস্থিত সেই যমুনা নদীর শাখা মাদারদহ নদীর শাখা বা বন্দরৌহা নদীর উপর নির্মিত হয়েছিলো বন্দরৌহা ব্রিজ। এই ব্রিজটির উপর দিয়ে চলাচল করে মেলান্দহ -মাদারগঞ্জসহ দুই উপজেলার মানুষ। কিন্তুু বিগত ২০২৪ সালের বন্যার প্রবল স্রোতের কারনে এই ব্রিজটির পশ্চিম পাশের এপ্রোচ ভেঙে যাওয়ায় মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। তবে রাস্তার ব্রিজটি অবস্থা জানতে পেরে নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকবারের সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কিসমত পাশা মেলান্দহ উপজেলা প্রশাসন কে অবহিত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সংবাদ পেয়ে জনদুর্ভোগ কমাতে তিনি দ্রুত ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকবারে সফল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কিসমত পাশা শাহীন বাজার সংলগ্ন মাদারদহ নদীর উপর বন্দরৌহা ব্রিজের ভেঙে যাওয়া এপ্রোচটি দ্রুত মেরামত করে কাঠের তৈরি একটি ব্রিজের সংযোগ ব্রিজ নির্মাণ করে ওই ব্রিজের সাথে সংযোগ দিয়ে রাস্তাসহ ব্রিজটি সচল করে দেয়। এতে করে মেলান্দহ উপজেলা ও মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ অন্তত পক্ষে ৫০টি গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি সচল হয়ে গেলেও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে অটোরিকশা,ইজিবাইক, ভ্যান,রিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি, ঘোড়ার গাড়ি, বাইসাইকেলসহ নানান ধরনের যানবাহন ও সাধারণ মানুষ। বর্তমানে সেই কাঠের তৈরি সংযোগ ব্রিজের এপ্রোচটি একেবারে ভেঙে যাওয়ায় সেটা যেন মানুষের মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের শাহীন বাজার সংলগ্ন ব্রিজটির কাঠের তৈরি সংযোগ ব্রিজটির এপ্রোচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন। এ বিষয়ে নাংলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কিসমত পাশা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তিনি জানান, গত বছর ২০২৪ সালের বন্যায় শাহীন বাজার সংলগ্ন ব্রিজের এপ্রোচ ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে আমি জনগণের ভোগান্তির কথা ভেবে উপজেলা প্রশাসন কে অবহিত করলে তাদের পরামর্শে আমি আপাতত কাঠের তৈরি একটি সংযোগ ব্রিজ নির্মাণ করে দেই যাতে করে দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে যায়।তবে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারলেও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে তাদের।এছাড়াও ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বর্তমানে সেই কাঠের তৈরি এপ্রোচ ভেঙে গর্তের মতো ফাঁকা হয়ে গেছে ও পুরাতন হয়ে যাওয়ায় কারণে সেটা যেন মানুষের মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। জীবনের অতি ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন। চলতি বছর অতি বৃষ্টির কারণে ও তীব্র নদী ভাংঙ্গনে শাহীন বাজারের দোকান, পার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফসলী জমি নদী ভাংঙ্গনের কারণে নদীর গর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে অনেকের বাড়ীঘর। তবে আমি দ্রুত ব্রিজটির এপ্রোচ ও শাহীন রাজারসহ কৃষকের ফসলী জমি যেন নদী ভাংগন থেকে দ্রুত রক্ষা পায় সেই জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করছি যাতে করে এই নদী ভাংঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে বেরিবাঁধ নির্মাণ করে নদী ভাংগন রোধ করতে পারে এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
