দাড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ায় মায়েদের অপমান করছে দূর্বৃত্তরা …জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো কোনো জায়গায় মায়েরা ভোট চাইতে গেলে অপমান করছে দূর্বৃত্তরা। আমাদের মায়েদের কি এই অধিকার নাই? তাদের কি এই দায়িত্ব নাই। যারা মায়ের গায়ে হাত তুলে। তারা কোন প্রজাতির? আমি বুঝতে পারি না। এরা কি মানুষ প্রজাতির নাকি অন্য প্রজাতির? এই কয়দিন ধরে উৎপাত শুরু হয়েছে। আমরা চাই সবার যার যার কর্মসূচী, পরিকল্পনা, বক্তব্য নিয়ে জনগণের কাছে যাক। মায়েদের অপমান আমরা সহ্য করবো না। যদি কোনো দূর্বৃত্ত আপনাদের কটু কথা বলে চোখে চোখে রেখে বলবেন, আমি মা, আমি তোমাদের পরোয়া করি না আমি পরোয়া করি আল্লাহকে।
গৃহে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তাসহ যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীদের হাতে দেশ গড়ার কাজ তুলে দেওয়া হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি ফুলের বাগান।
রবিবার দুপুরে জামালপুর শহরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য এ সব কথা বলেন।

ড. শফিকুর রহমান আরো বলেন, এই নির্বাচনে দুইটা ভোট হবে, প্রথম ভোট সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। যারা আবার আমাদের গলায় গোলামির জিঞ্জির পরাতে চায়, তারাই কেবল ‘না’ ভোটের কথা বলতে পারে। কিছু দল তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যাপারে স্বস্তির সাথে কিছু বলতে চান না। আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই আমরা যেভাবে ১৮ কোটি মানুষের সামনে গিয়ে সব জায়গায় সব সভায় বলছি সংস্কারে ‘হ্যাঁ’ ভোট, গনভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট। আপনারা ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না সেটি ভালো করে বলেন। আস্তে আস্তে লুকিয়ে লুকিয়ে বলেন কেনো? আমরা তাদের কাছে বিনয়ের সাথে বলতে চাই ‘না লুকিয়ে লুকিয়ে বলছে। তাদেরকে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলার আহ্বান জানান।
এ সময় ড. শফিকুর রহমান এবারের নির্বাচনকে বাক পরিবর্তনের নির্বাচন বলে দাবি করে বলেন, বাংলাদেশে ধর্ম, দল বা গায়ের রঙের ভিত্তিতে নয় বরং যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে। আগামী ১২ তারিখ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন ২৬ এর নির্বাচন। এই নির্বাচন ১ হাজার ৪শ’শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন। এই নির্বাচন আন্দোলনে পঙ্গুত্ব বরণ করা ৩৪ হাজার আহতের নির্বাচন। এই নির্বাচন শহীদ পরিবারের হাহাকারের নির্বাচন। এটি আয়নাঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের পরের নির্বাচন। ফ্যাসিবাদী রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন।
ড. শফিকুর রহমান আরো বলেন, আমাদের দলের ৬২ ভাগ যুবক। আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না। আমরা বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিবো। আমাদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে জামালপুরের উন্নয়নের জন্য স্পেশাল ইকোনমিক জোন, ডাবল রেললাইন, নদী ভাঙন রোধ এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ সব যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হবে। জামায়াতের প্রার্থী যারা নির্বাচিত হবেন প্রতি বছর তার এবং তাদের পরিবারের আর্থিক হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
বক্তব্য শেষে তিনি জামালপুর জেলার ৫টি আসনের দলীয় প্রার্থীদের হাতে দাড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
জামালপুর জেলা জামায়াতের আমির জামালপুর-৫ সদর আসনের এমপি প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ি) আসনের এমপি প্রার্থী এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাংগঠনিক সেক্রেটারী জামালপুর-২(ইসলামপুর) আসনের এমপি প্রার্থী ড. ছামিউল হক ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভুইয়া, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনের এমপি প্রার্থী নাজমুল হক সাঈদী, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের এমপি প্রার্থী মো. মজিবুর রহমান আজাদী, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট ছানোয়ার হোসেনসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।
