উপজেলার সংবাদজামালপুরবকশীগঞ্জ

বকশিগঞ্জে বিএনপি নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে আলোচনার ঝড়

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুল্লা আল শাফী লিপনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, আমার মৃত্যু হলে বিএনপির কোন নেতা আমার নামাজে জানাজায় যেন না থাকেন

আজ ১০ জুলাই শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এর কারণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মন্তব্যের মাধ্যমে তার খোঁজখবর নেন এবং স্ট্যাটাসের পেছনের কারণ জানতে চান।

স্ট্যাটাসে আব্দুল্লা আল শাফী লিপন লিখেছেন, কিছু কথা, আমি বকসীগঞ্জ উপজেলা ছাএদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, কে ইউ কলেজ ছাএ সংসদের নির্বাচিত জিএস, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব, জামালপুর জেলা বিএনপির সদস্য হিসাবে কাজ করেছি। ১৮ টা মামলার আসামি নির্যাতিত হওয়ার পড়েও দলে কোনো জায়গায় আমাকে রাখেনি। আমি সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম সাহেবের ভাই হওয়ার কারণে আমাকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। আমার চেয়ে জামালপুর জেলায় কোনো নেতা নির্ষাতিত হয় নাই বেশি মামলাও নাই। আমি অনেক অসুস্থ আমার কিছু হলে বিএনপির কোনো নেতা আমার জানাজায় যেন না থাকেন। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রাজনীতির অনুসরণ, অনুকরণ ও মনেপ্রাণে অন্তঃকরণের পর ছাত্রজীবন থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির চর্চায় মনোনিবেশ করেন আব্দুল্লাহ আল শাফি লিপন। আত্মনিবেদনে ভরপুর এবং ভোগবাদী, সুবিধাবাধী ও সিন্ডিকেট রাজনীতির বিপরীতে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত তার রাজনৈতিক জীবন। ২০০৮ সালে ওয়ান ইলিভেনের সময় গ্র্রেপ্তার হয়ে ১৭ মাস জেল খাটেন লিপন। বিগত সরকারের সময় তিনি ১৮টি মামলার আসামি হন এবং তিনবার কারাবরণে ১৭ মাস জেলহাজতে ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হন।

মো. আব্দুল্লা আল শাফী লিপনের বলেন, সম্প্রতি শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে ডাক্তারের পরমর্শে নিজ বাসায় বিশ্রামে আছেন। দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারের পর এমন পরিস্থিতিতে তিনি মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছেন। ব্যক্তিগত অভিমান থাকলেও দলের প্রতি তার ভালেবাসা এবং অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বিএনপি রাজনীতির সাথে থাকবেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এলাকার মানুষের পাশে থাকতে চান তিনি। সেই অভিমান থেকেই ফেসবুকে ওই স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা বিএনপি নেতার স্ট্যাটাসটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এর প্রেক্ষিতে দলীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বকশিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর বলেন, বর্তমানে তিনি দলের সাথে সম্পৃক্ত নন এবং আমাদের সাথে যোগাযোগও করেন না। আপনার মাধ্যমে জানলাম তিনি অসুস্থ্য বকশিগঞ্জ থাকলে বাড়িতে গিয়ে দেখে আসতাম এবং তার রোগ মুক্তি কামনা করি। ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *