আলোচিতইসলামপুরউপজেলার সংবাদজামালপুর

বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ এমপি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের গাড়ি ভাঙচুর

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:

জামালপুরের ইসলামপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে পাল্টা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের সুলতান মাহমুদ মডেল কলেজে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব, এমপির মেয়ে ও উপজেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক নাসিদা সাফিজ বিনতী এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সদস্য সানজিয়া সাফিজ দ্যুতি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠান চলাকালে কলেজের বাইরে এমপির বড় মেয়ে বিনতীর অনুসারী উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হাসমতের সঙ্গে উপজেলা স্বে”ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নবাবের অনুসারী রিয়ান আহমেদ রিপনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতারা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান হয়নি। এ সময় কেউ হতাহত না হলেও সংসদ সদস্যের মেয়ের নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এক পক্ষ।

অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য ডাকবাংলোতে যান। এ সময় তার গাড়িতে একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাবের গাড়িতেও পাল্টা ভাঙচুর চালানো হয়। পরে রাত সোয়া ৮টার দিকে এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু দুই মেয়েকে নিয়ে অন্য একটি মাইক্রোবাসে করে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতেরচর গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ইউসুফকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইসলামপুর বিএনপির অভ্যন্তরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতা-কর্মীরা। পারস্পরিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, দুস্কৃতকারীরা আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে। আমার সুনাম নষ্ট করতে এবং এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই এটি করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব জানান, মলমগঞ্জ অনুষ্ঠানে কয়েকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। বিষয়টি সেখানেই মীমাংসা করা হয়। পরে আমার গাড়িতে উঠেই এমপিসহ আমরা ডাকবাংলোতে যাই। মাগরিবের নামাজের ওযু করার সময় শুনি এমপির মেয়ের নির্দেশে আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

নুরুল ইসলাম নবাবের অভিযোগ, এমপি দলীয় নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে তার দুই মেয়েকে নিয়েই চলাফেরা করেন, মেয়েদের সিদ্ধান্তেই সবকিছু করেন। এ কাজে আমাকে বাধা মনে করা হয়। বিধায় মলমগঞ্জের অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে ডাকবাংলোয় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

ইসলামপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিবিসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *