জামালপুরে সাংবাদিক নাদিম হত্যার আসামীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরে বাংলা নিউজ ও একাত্তর টিভির সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যা মামলার আসামীদের চার্জিশিটে অন্তর্ভুক্ত করা ও হত্যাকান্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে জামালপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাবের সামনে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজ এর লুৎফর রহমান, জামালপুর নাগরিক ভয়েস এর সভাপতি জামালপুর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মানবকন্ঠের কাফি পারভেজ, দৈনিক সচেতন কন্ঠের সম্পাদক বজলুর রহমান, আমারদেশের সাংবাদিক সৈয়দ শওকত জামান, আলোচিত জামালপুর এর নির্বাহী সস্পাদক কবি সাযযাদ আনসারী, বাংলাভিশনের সাংবাদিক জুলফিকার জাহিদ হাবিব, চ্যানেল২৪ ও সমকালের সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মিন্টু, জামালপুর নাগরিক ভয়েস এর সাধারণ সম্পাদক কালবেলার মশিউর রহমান, চ্যানেল নাইন এর শফিকুল ইসলাম ঝোকন, সরিষাবাড়ি প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাহাঙ্গীর, বকশিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু, মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মেলান্দহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দিলরুবা ইয়াসমিন রুমা, নাদিম হত্যা মামলার শাক্ষি নয়াদিগন্তের বকশিগঞ্জ প্রতিনিধি মোজাহিদ বাবু, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েসন জামালপুর শাখার আহবায়ক শাহাবুল আকন্দ, যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম তুফান, সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের বাবা আবদুল করিম, স্ত্রী মনিরা বেগম প্রমুখ।
মানববন্ধনে নিহত সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, তিন বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যা মামলার কোনো কুলকিনারা হচ্ছে না। বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা মানবেতর অবস্থায় আছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মামলার শুরু থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে টালবাহানা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এআইজি মোখলেছুর রহমান পান্না এবং এএসপি রেদুয়ান রনি যাদের সঙ্গে মামলার আসামিদের আত্মীয়তার অভিযোগ রয়েছে। তারা তদন্ত প্রভাবিত করেছেন।
মনিরা বেগম আরো বলেন, প্রথমে সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে নাদিমের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে গলির ভেতরে নিয়ে মারধর করা হয়। কিন্তু সিআইডির তদন্ত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখে প্রকৃত খুনিদের বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে র্যাব তদন্ত করে। তার অভিযোগ, র্যাবের তদন্তেও সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত আসামি গোলাম কিবরিয়া সুমনসহ দুজনকে বাদ দেওয়া হয় এবং মামলার ধারাও কমিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একই ধরনের তদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, পুলিশ দিয়ে তদন্ত করে আমরা সঠিক বিচার পাব না। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিক নাদিম হত্যার প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে তাদের ফাঁসি দিতে হবে।
মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও দৈনিক নয়া দিগন্তের বকশিগঞ্জ প্রতিনিধি মোজাহিদ বাবু বলেন, প্রত্যেক তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তাই তার সাক্ষ্য নিয়েছেন। কিন্তু চার্জশিটে তার সাক্ষ্যের সঠিক বিবরণ আসেনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বকশিগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও তিন বার অভিযুক্ত কয়েকজন আসামীকে পাশ কাটিয়ে চার্জশিট প্রদান করা হয়। এতে করে মূল আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। তাই মামলার প্রধান আসামী মাহমুদুল আলম বাবু ও তার ছেলে রিফাতসহ হত্যাকান্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে জামালপুর জেলার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য ২০২৩ সালের ১৪ জুন রাতে জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলা সদরের পাটহাটি এলাকায় সাধুরপাড়া ইউপি বহিস্কৃত চেয়ারম্যান মাহমুদল আলম বাবুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে মাথা থেতলে গুরুতর আহত করে। পরদিন ১৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে ১৭ জুন বকশিগঞ্জ থানায় মাহমুদুল আলম বাবুসহ ২২ জনের নামে এবং আরো অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে।
