আদর্শ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে পূর্ব থুরীতে নাগরিক সমাজ-পুলিশের মতবিনিময়

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার পূর্ব থুরীতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এবং মেলান্দহ পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি আদর্শ, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) পূর্ব থুরী জামে মসজিদ মোড়ে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের রসায়ন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামালপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা।
তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও উন্নত রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাদক, ইভটিজিং, কিশোর অপরাধসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছে। কোনো অপরাধ বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানালে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মেলান্দহকে আরও শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক ও কিশোর অপরাধসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আমরা নিয়মিতভাবে কাজ করছি। জনগণের সহযোগিতা পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা সম্ভব।”
সভায় বক্তব্য রাখেন মহিলা অধিদপ্তরের শেরপুর জেলা কর্মকর্তা মো. লুৎফুল কবীর, রুবেল চৌধুরী, পূর্ব থুরী জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আমিনুল ইসলাম, প্রভাষক, মোঃ হাসেম, মেলান্দহ উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহন তালুকদার,শিক্ষক আনিছুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে মাদক, বাল্যবিবাহ, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় স্থানীয় নাগরিকরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা, মাদক ও অপরাধ দমন এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আনিছুর রহমান চৌধুরী।
