দিনমজুর বাবার মেধাবী সন্তানের পাশে এমপি বাবুল

মোঃ রুহুল আমিন রাজু,জামালপুর প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার একজন দিনমজুর বাবা মো. রেজাউল। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখেছেন—ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এবার বড় সুযোগ এসেছে তাঁর ছেলে মো. মাসুম মুন্নার জীবনে। মাসুম মুন্না এবার জামালপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছেন।
ছেলেকে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিতে নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে জামালপুরে ছুটে আসেন দিনমজুর বাবা রেজাউল। কলেজে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পরিচয়পর্বে দাঁড়িয়ে যখন তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমি রেজাউল, বাড়ি নওগাঁর নিয়ামতপুরে, আমার ছেলে মাসুম মুন্না’—তখন মুহূর্তেই উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁর সরল পরিচয়ের আড়ালে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য একজন সংগ্রামী বাবার দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প যেন ফুটে ওঠে।
এই ঘটনা হৃদয় ছুঁয়ে যায় জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের। মানবিকতা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাসুম মুন্নার শিক্ষাজীবনের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
এ সময় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, “আমিও এর বাইরে নই। আমার ভেতরের মানুষটা এই দরিদ্র ও সংগ্রামী বাবার মেধাবী সন্তানের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করেছে। তাই এমপি হিসেবে আমার ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মাসুম মুন্নাকে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি, ছেলের শিক্ষার খরচ যোগাতে বাবাকে এরপর আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাবাকে বলেছি, আপনি নিশ্চিন্তে ছেলেকে আমার হাতে দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। তার পড়াশোনার ব্যাপারে যতটা সম্ভব আমি পাশে থাকব। সবই মহান আল্লাহর হুকুম। একজন দরিদ্র বাবার সন্তান মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে অর্থের অভাবে তার স্বপ্ন থেমে যাওয়া উচিত নয়।”
এমপি বাবুলের এমন মানবিক উদ্যোগে উপস্থিত অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলেন, জনপ্রতিনিধিত্ব শুধু দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করে প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই একজন জনবান্ধব জনপ্রতিনিধির প্রকৃত পরিচয়।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সমাজের অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে। এতে শুধু একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনই এগিয়ে যাবে না, বরং একজন সংগ্রামী পরিবারের স্বপ্নও বাস্তব রূপ পাবে।
সততা, আদর্শ, সাদামাটা জীবনযাপন ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে মানুষের পাশে থাকার এমন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের ক্লিন ইমেজ, মানবিক নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমুখী মানসিকতার আরেকটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হলো।
