জামালপুরে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না চুলা বিভিন্ন রুটে ভাড়া দ্বিগুণ থমকে আছে অ্যাম্বুলেন্স
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরে টানা চার দিনের তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চুলা জ্বলছে না। জেলার একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের অভাবে আটকে আছে শত শত যানবাহন। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিভিন্ন রুটে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। গৃহস্থালির স্থবিরতা আর পরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।
গ্যাস না থাকায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা। এদিকে টানা চার দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় গৃহিণীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিকল্প হিসেবে চড়া দামে হোটেলের খাবার বা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সড়কেও। জেলার প্রায় পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের একমাত্র ভরসা জাবেদ ফিলিং স্টেশন। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় সেখানেও তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিপর্যয়। গত এক সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নেই। ফলে যানবাহন কমে যাওয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
জামালপুর থেকে বকশিগঞ্জের ভাড়া ১০০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা, মাদারগঞ্জ রুটে ৬০ টাকার ভাড়া বেড়ে ১০০ টাকা, সরিষাবাড়ি রুটে ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, দেওয়ানগঞ্জ ১০০ থেকে ২০০ টাকা, ইসলামপুর রুটে ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, মেলান্দহ রুটে ৪০ টাকা থেকে ১০০ টাকা এবং ময়মনসিংহ রুটে ১৬০ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ,
চালকদের দাবি, গ্যাসের জন্য ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় দুই-তিন দিন অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে তাদের খরচ বেড়েছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুজন মিয়া বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে আমরা খুব কঠিন সময় পার করছি। আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছি, কিন্তু তাতেও পোষাচ্ছে না। আমাদের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
শহরের সরদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা কামরুন নাহার বলেন, বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চুলা জ্বলছে না। সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের খাবার তৈরি করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
শহরের বাইপাস মোড়ে অপেক্ষারত যাত্রী রাজু জানান, গ্যাসের দোহাই দিয়ে চালকেরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন, বাধ্য হয়েই তাদের পকেটের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে জাবেদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আতিক রহমান বাবর জানান, এটি দেশব্যাপী সংকটের অংশ। গ্রিড থেকে গ্যাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা গ্রাহকদের তা সরবরাহ করছেন।
জামালপুর তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক দুর্জয় খকশী বলেন, জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কারণে বুধবার রাত ১০টা থেকে মূল লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
জামালপুরের পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, যদি কোথাও ভাড়া বাড়ানোর মতো ঘটনা ঘটে তাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
