মেলান্দহে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্রীড়া সামগ্রী ও অসচ্ছলদের মাঝে হুইল চেয়ার, সেলাই মেশিন ও ঢেউটিন বিতরণ

মোঃ রুহুল আমিন রাজু জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ:
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইল চেয়ার এবং দুঃস্থ ও অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে সেলাই মেশিন, ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে মেলান্দহ উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুন আরার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, সরকারের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা। শিক্ষা, ক্রীড়া, প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়তা এবং অসচ্ছল পরিবারের স্বাবলম্বিতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে হবে। একটি সুস্থ, সুন্দর ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষা ও ক্রীড়ার সমন্বিত বিকাশ অপরিহার্য। একই সঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া, দুঃস্থ ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এমপি বাবুল আরও বলেন, সরকারি সহায়তার উদ্দেশ্য শুধু সাময়িক স্বস্তি দেওয়া নয়; বরং মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া। একটি হুইল চেয়ার একজন প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা বাড়াতে পারে, একটি সেলাই মেশিন একটি পরিবারের স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করতে পারে। তাই প্রত্যেক উপকারভোগীকে সরকারি সহায়তার সর্বোত্তম ব্যবহার করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
তিনি বলেন, গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারি বরাদ্দ আরও বাড়িয়ে আনার বিষয়ে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় উন্নয়ন ও সামাজিক সহায়তার পরিধি আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা থাকবে। জনগণের জন্য বরাদ্দ করা প্রতিটি টাকা যেন যথাযথভাবে কাজে লাগে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে এমপি বাবুল বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি নিজেও কোনো প্রকার দুর্নীতি করবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, মেলান্দহের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, খেলাধুলার প্রসার, সামাজিক নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুন আরা বলেন, “সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে যায়, উপজেলা প্রশাসন সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি অসহায় মানুষের স্বাবলম্বিতা অর্জনে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীরা যেন নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে যেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তাজ উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা আক্তার জ্যোতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজাদুর রহমান ভূইয়া, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, টনকী জোবায়দা জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মতিউর রহমান মুক্তা প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ারুল কাদির শ্যামল তালুকদার, সাবেক তিনবারের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং মেলান্দহ পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব এম. রফিকুল ইসলাম রহিম, সহসভাপতি ও মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৈয়বুর রহমান মাস্টার, সহসভাপতি ও নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব ফজলুল কাদের হেলাল, সহসভাপতি আলী আকবর কমিশনার, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ লুৎফর রহমান লিটন, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সহসম্পাদক এবং কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন রাজুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেলান্দহ উপজেলা শিক্ষা একাডেমিক সুপারভাইজার আশরাফুল আলম।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইল চেয়ার এবং দুঃস্থ ও অস্বচ্ছল মানুষের মাঝে সেলাই মেশিন, ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
বিতরণ কার্যক্রমের মধ্যে কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৫ জনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক, ২৪ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হুইল চেয়ার, ২২ জনের মাঝে সেলাই মেশিন, ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী এবং ৬ জন অসচ্ছল মানুষের মাঝে ঢেউটিন ও প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা ও ক্রীড়ার উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী, দুঃস্থ ও অসচ্ছল মানুষের স্বাবলম্বিতা অর্জনে এ ধরনের সহায়তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে এর মাধ্যমে অনেক পরিবার নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
