আলোচিতউপজেলার সংবাদজামালপুরবকশীগঞ্জ

বকশিগঞ্জে রাস্তার কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার দুর্ভোগে পৌরবাসী, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী-যানচালক

বকশিগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশিগঞ্জ পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড বটতলা মোড় থেকে পুরাতন গরুহাটি হয়ে জব্বারগঞ্জ বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ ফেলে রেখে প্রায় এক বছর ধরে উধাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খুঁড়ে রাখা সড়কে নিম্নমানের খোয়া ছড়িয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই জমছে পানি। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পৌরবাসী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যানবাহনচালকেরা। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাসস্ট্যান্ড বটতলা থেকে পুরাতন গরুহাটি হয়ে জব্বারগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি ৮৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজটির কার্যাদেশ পায় শওকত এন্টারপ্রাইজ। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে সেখানে খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় খোয়া সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর সড়কে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ¯’ানীয়রা বাধা দিলে একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কাজে ফেরেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
পৌরবাসী আশরাফুল বলেন, আগে সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যেত। এখন বাজারে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজে বের হওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
ইজিবাইকচালক আকবর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে যান চালাতে কষ্ট হচ্ছে। গর্তে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে কাজ ফেলে রাখার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শওকত এন্টারপ্রাইজের মালিকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঠিকাদারকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কাজ শুরু করেননি। ঠিকাদারকে জরিমানা করা হয়েছে এবং কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এখন নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *