সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে পথ দেখাচ্ছেন আইনজীবী, সমাজসেবক ও মানবাধিকার কর্মী জামালপুরবাসীর গর্ব মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ

বিশেষ প্রতিনিধি:
আইন শুধু অপরাধের শাস্তি বা অধিকার আদায়ের হাতিয়ার নয়, বরং তা সমাজ পরিবর্তনের এক শক্তিশালী মাধ্যম, এই সত্যকে যিনি নিজের আচার, ব্যবহার ও কর্মে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করছেন, তিনি হলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক এবং আপসহীন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে তিনি এ দেশের আইন অঙ্গনে এক অনন্য নাম। যাঁরা কেবল নিজের পেশাগত সাফল্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিচ্ছেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। আদালতের চার দেয়াল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের কুঁড়েঘর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে তাঁর কর্মক্ষেত্র। একদিকে আইনের ধারালো যুক্তি দিয়ে তিনি আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করছেন, অন্যদিকে মানবিক তাড়নায় সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়েও শামিল থাকছেন। সমাজ সংস্কার এবং মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর সাহসী পদক্ষেপগুলো সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। এই লেখাটি কেবল একজন ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্ত নয়; এটি একটি সময়ের ইতিহাস, আইনি লড়াইয়ের দলিল এবং মানবতার জয়গান। তাঁর শৈশব, মেধার বিকাশ, পেশাগত জীবনের চ্যালেঞ্জ, সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড এবং মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর আপসহীন সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করা যায়, তার জীবনী আত্মস্থ করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আইনজীবী, সমাজকর্মী এবং তরুণ সমাজের জন্য একটি দিকনির্দেশনা এবং গভীর অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।
জনাব মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের একজন স্বনামধন্য আইনজীবী হিসাবে নিয়োজিত আছেন। ছাত্রজীবন থেকে অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও আগাগোড়া পরিশ্রমী এবং পেশাগত জীবনে অতীব মনোযোগী সহজ সরলমনা একজন মানুষ। ছাত্রজীবনে স্থানীয় জে,এন,জি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিটি শ্রেণিতে সর্বদা প্রথম হয়ে সর্ব প্রথম ১৯৭৭ সালে উক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে মেধাভিত্তিক সরকারী বৃত্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে জামালপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী জামালপুর হাই স্কুলের কৃতি ছাত্র হিসাবে পরিচিতি লাভ করে সর্বদা প্রতিটি শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৭৯ সালে জুনিয়ার বৃত্তি পরীক্ষায় এককভাবে সরকারী বৃত্তি লাভ করেন এবং ১৯৮২ সনে এস,এস,সি পরীক্ষায় ৪ বিষয়ে লেটার মার্কসসহ বিজ্ঞানে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তৎপর তিনি বৃহত্তর জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারী আশেক মাহমুদ কলেজ হতে কৃতিত্বের সাথে বিজ্ঞানে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তৎপরবর্তীতে জনাব জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রীসহ সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট হতে সমাজকল্যাণ বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে এম,এস,এস ডিগ্রী অর্জন করেন এবং একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কৃতিত্বের সাথে এল,এলবি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ-হয়ে আইনজীবী সনদপত্র লাভ করেন এবং ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বার আইনজীবী সমিতিতে সদস্যভুক্ত হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের একমাত্র সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিশের জন্য পারমিশন সনদ লাভ করেন এবং ১৯৯৪ সনে বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট বার আইনজীবী সমিতির সদস্যভুক্ত হন। তৎপর তিনি তার মেধা ও যোগ্যতা বলে দীর্ঘদিন যাবৎ নিরলসভাবে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত অবস্থায় ২০১৩ সালে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সনদ প্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর যাবৎ অত্যন্ত সুনামের সাথে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। তিনি সিভিল, ক্রিমিনাল ও রীট বিষয়ে অসংখ্য মামলা নিজে পরিচলনা করে আসছেন। পেশাগত জীবনে তার শিক্ষক ছিলেন তৎকালীন কাতার-এ নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সুনামধন্য আইনজীবী মরহুম আব্দুল হামিদ চৌধুরী।
দীর্ঘদিনের আইনজীবী পেশা জীবনে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার পরিচালনা করেন, তন্মধ্যে জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার নান্নু মিয়া বনাম রাষ্ট্র ফৌজদারী আপীল মামলায় তার প্রতিপক্ষে নিয়োজিত ৩ জন প্রখ্যাত আইনজীবী জনাবা প্রয়াত সিগমা হুদা, ব্যারিষ্টার তানিয়া আমির এবং জনাব এনায়েতুর রহিম (যিনি পরবর্তীতে হাইকোর্টে এবং আপীল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ প্রাপ্ত হন) প্রমুখগণের সাথে লড়াইয়ে জয়লাভ করেন, এছাড়া ঢাকা চিড়িয়াখানার বাঘ হত্যা মামলার আসামীদের পক্ষে আইনী লড়াইয়ে সকল দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে খালাস করতে সক্ষম হন এবং রীট মামলায় ঝাওলা গোপালপুর কলেজের অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেনের বরখাস্ত আদেশ বাতিল করে স্বপদে বহালের আদেশের রায় পান। এরূপ অসংখ্য সিভিল, ক্রিমিনাল ও রীট মামলা হাইকোর্ট বিভাগে ও আপীল বিভাগে পরিচালনা করে জয়লাভ
করেন।
জনাব জিন্নাহ বিবাহিত এবং ২ পুত্র সন্তান ও ১ জন কন্যা সন্তানের জনক। পুত্রদ্বয় কুরআনে হাফেজ হয়েছেন এবং কৃতিত্বের সাথে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হতে দাখিল, আলিম পরীক্ষায় (অ+ সহ) ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা হতে ফাজিল (অনার্স) ও এমএ (কামিল) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে বড়পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ও ছোট পুত্র আইন বিষয়ে অধ্যায়নরত। একমাত্র কন্যা সন্তান এইচ,এস,সিতে অধ্যয়নরত।
তিনি পেশাজীবনের পাশাপাশি নানাবিধ সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। মানবাধিকার বিষয়সহ বিভিন্ন গবেষনামূলক বিষয়ে পদকপ্রাপ্ত হন, যথা- শেরেবাংলা স্মৃতি সম্মাননা পদক ২০১৭, বিচারপতি সৈয়দ আমীর আলী স্বর্ণপদক এবং লেনসন ম্যান্ডেলা গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। তিনি একজন রাজনীতির উর্দ্ধে ব্যক্তি স্বতন্ত্র মানুষ। তিনি ২০০১ সালে জামালপুর সদর-৫ আসন থেকে মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে এমপি পদে নির্বাচন করেন। জামালপুরবাসী তাকে সাদর সম্ভাষণ জানান। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসেসিয়েশনে ২০০৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সহ-সেক্রেটারী পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। তিনি একজন সক্রীয় রোটারিয়ান এবং “রোটারী ক্লাব ইস্কাটন ঢাকা’র সাবেক সভাপতি এবং রোটারী ডিস্ট্রিক ৩২৮১ এর সহকারী গভর্ণর ও ডেপুটি গভর্ণরের পদেও
অধিষ্টিত হন।
তিনি ইতিমধ্যে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের ডাকে ও তার রহমতে ৩ বার হজ্বব্রত পালন করেন যার মধ্যে তার মরহুম পিতা-মাতার জন্য বদলী হজ্ব করেন। এবং মক্কা-মদীনার গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ জিয়ারত ও দর্শন করেন। তিনি স-স্ত্রীক একবার হজ্বব্রত পালন করেন এবং কন্যা-স্ত্রীসহ ওমরাহ হজ্বও পালন করেন। তিনি ন্যায়নীতির ভিত্তিতে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলস ভাবে আইন পেশা পরিচালনা করে যাচ্ছেন। বিশেষ ভাবে বৃহত্তর জামালপুর জেলার অধিকাংশ গরীব দুঃখী মানুষের মামলাসমূহ হাইকোর্টে পরিচালনা করে জামালপুরবাসীর মনের মনি কোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন। তার এই দীর্ঘ জীবনে জামালপুরবাসীসহ দেশের সকল শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন এবং তিনি ভবিষ্যতে সকলের দোয়া নিয়ে আমৃত্যু মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে আগ্রহী। এ জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন তার ও তার পরিবারের সুস্থতা কামনা করেছেন।
পরিশেষে বলা যায়, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কেবল একজন সফল আইনজীবীই নন, বরং তিনি সমাজ ও মানবতার এক অতন্দ্র প্রহরী। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের শেখায় কীভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও নীতি ও আদর্শে অবিচল থাকা যায়। এই মহান ব্যক্তিত্ব আমাদের সমাজে এক আলোকবর্তিকা হিসেবে পথ দেখাচ্ছেন। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং ভবিষ্যৎ সমাজসেবামূলক কাজের নিরবচ্ছিন্ন সাফল্য কামনা করি। যেন তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামী প্রজন্মও একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে পারে।
