দুর্নীতিবাজ ও অর্থলোভীদের মানুষ ঘৃণা করে, মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব – এমপি বাবুল

মোঃ রুহুল আমিন রাজু, জামালপুর প্রতিনিধি:
“যারা দুর্নীতিবাজ ও অর্থলোভী, মানুষ তাদের ঘৃণা করে। আমরা দুর্নীতিকে ঘৃণা করব। একই সঙ্গে অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন যেন থেমে না যায়, সে জন্য তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দারিদ্র্য কখনো মেধাকে আটকাতে পারে না”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
শনিবার (২৯ আগস্ট) জামালপুরের মেলান্দহে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, মেলান্দহ উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৫১ জন কৃতী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষায় ভর্তির দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন। তাঁর এ ঘোষণায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়।
এমপি বাবুল বলেন, “আমি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী ১৫১ জন শিক্ষার্থীর ভর্তির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন নষ্ট না হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। আমি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে তাদের পাশে থাকতে চাই।”
তিনি বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি তাদের পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পুরো মেলান্দহের জন্য গর্বের বিষয়।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে এমপি বাবুল বলেন, “যারা দুর্নীতি করে এবং অর্থের প্রতি অতিরিক্ত লোভী, মানুষ তাদের ঘৃণা করে। আমরা দুর্নীতিকে ঘৃণা করব। এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দুর্নীতি ও অর্থলোভের পরিবর্তে সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও মেধার মূল্যায়ন হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, তাদের সৎ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।”
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এমপি বাবুল বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করি। তাঁকে অনুসরণ করা আমাদের সবার দায়িত্ব বলে মনে করি।”
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ তুলে দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষা, সবুজায়ন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে এমপি বাবুল বলেন, তাদের সাফল্য ধরে রাখতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, মেলান্দহ উপজেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান মিস্টার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মেলান্দহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজাদুর রহমান ভূইয়া। তিনি বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সম্মাননা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্জুরুল কবীর মন্জু, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ারুল কাদির শ্যামল তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সদস্য সচিব বিশিষ্ট সাংবাদিক আলহাজ্ব নূরল আলম সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাফিজ নাহিনসহ শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পরে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা-২০২৬-এ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা এবং মেধার বিকাশে পাশে থাকার অঙ্গীকারের পাশাপাশি ১৫১ জন কৃতী শিক্ষার্থীর ভর্তির দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণাকে স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
