রূপসী হত্যা: প্রেমের সম্পর্কের পর সেচঘরে মরদেহ, একাই হত্যার দাবি পুলিশের
মোঃ মানিক ইসলাম:
জামালপুরের মাদারগঞ্জে সেচঘর থেকে কিশোরী রূপসী (১৫)-এর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক আল জিহাদ (১৯) ওরফে রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আল জিহাদ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন এবং তিনি একাই রূপসীকে হত্যা করেছেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহত রূপসীর ভাই রনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে ১ নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ঘোনাপাড়া এলাকায় একটি স্যানিটারি দোকানে কাজ করতেন আল জিহাদ। তার বাড়ি একই ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকায়। বাড়ির পাশ দিয়ে যাতায়াতের সুবাদে রূপসীর সঙ্গে আল জিহাদের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগ চলতে থাকে।
রনির ভাষ্য, বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা জানতে পারলে তার বাবা রূপসীর ব্যবহৃত মোবাইলের সিম বন্ধ করে দেন। পরে আল জিহাদ তার দাদির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একটি সিম রূপসীকে দেন। পরবর্তীতে আরও একটি সিম দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রনি জানান, রূপসীর মৃত্যুর পর তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দুটি সিম ও একটি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে রূপসী তার পছন্দের একজনকে ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের তাকে খোঁজ না করার অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান রনি।
পরিবারের দাবি, রূপসী গোপনে মাঝেমধ্যে বাটন মোবাইল ফোনে আল জিহাদের সঙ্গে কথা বলতেন। বিষয়টি জানতে পেরে রনি আল জিহাদকে বলেন, রূপসীকে বিয়ে করতে হলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসতে হবে। তবে আল জিহাদ তা করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
রনির আরও দাবি, রূপসীর মৃত্যুর পাঁচ-ছয় মাস আগে আল জিহাদ তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। পরে রনি চাকরির কারণে ঢাকায় চলে গেলে রূপসী ও আল জিহাদের মধ্যে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ চলতে থাকে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রূপসী বাড়িতে নেই বলে জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকালে বইশাগাড়ী এলাকার একটি সেচঘরে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান রূপসীর বাবা ছাইরদ্দীন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মরদেহটি রূপসীর বলে শনাক্ত করেন।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের স্থান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বইশাগাড়ী এলাকায় একাধিক সেচপাম্প থাকলেও অন্য সেচঘরগুলোর দরজা বন্ধ ছিল। যে সেচঘর থেকে রূপসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেটির দরজা খোলা ছিল। কীভাবে আল জিহাদ ওই সেচঘরের অবস্থান জানতেন এবং কেন ওই স্থানটিকেই বেছে নেওয়া হলো—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় রূপসীর নাক দিয়ে রক্ত দেখা গেলেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান আঘাত বা নীলাফোলা দাগ দেখা যায়নি। ধস্তাধস্তির দৃশ্যমান কোনো আলামতও তারা দেখতে পাননি বলে জানান। আশপাশে বাড়িঘর থাকায় ঘটনার রাতে কেউ কোনো চিৎকার বা অস্বাভাবিক শব্দ শুনেছেন কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, গ্রেপ্তার আসামি আল জিহাদ ওরফে রাকিব জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্যমতে, তিনি একাই রূপসীকে হত্যা করেছেন এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল না। প্রাথমিক তদন্তেও অন্য কারও জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের কাজ চলমান রয়েছে।
