কোটি টাকা ব্যয়ে ডাম্পিং স্টেশন, তবুও পৌর ফটকের পাশে ময়লার ভাগাড়—দুর্গন্ধে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী ও পথচারী

মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ মানিক ইসলাম:
কোটি টাকা ব্যয়ে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হলেও সেখানে নিয়মিত ময়লা না ফেলে মাদারগঞ্জ পৌরসভার মূল ফটকের পাশেই ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য।
মাদারগঞ্জ–জামালপুর আঞ্চলিক সড়কের বালিজুড়ী ফার্নিচার মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ভাগাড়। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পথচারীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার মূল ফটকের পাশেই সড়কের একাংশে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশের এলাকায়। ব্যস্ততম সড়কের পাশে এমন ময়লার স্তূপ থাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে পৌর শহরের বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে তাদের নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় ময়লার দুর্গন্ধে পথ চলার সময় অস্বস্তি ও ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় এই রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। রাস্তার পাশে এত ময়লা জমে থাকে যে দুর্গন্ধে ঠিকমতো চলাচল করা যায় না। পৌরসভার সামনে এমন পরিবেশ আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডাম্পিং স্টেশন থাকার পরও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও জনবহুল সড়কের পাশে কেন ময়লা ফেলা হচ্ছে? ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হলেও সেটি যথাযথভাবে ব্যবহার না হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল কোথায়—এমন প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
অন্যদিকে মাদারগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযান। পৌরসভার আওতাধীন বিভিন্ন অফিস ও বাসাবাড়িতে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে।
অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়া গেলে জরিমানা করার কথাও জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সুমন চৌধুরী।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে যখন পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন পৌরসভার মূল ফটকের পাশেই ময়লার এমন ভাগাড় থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে পৌরসভার মূল ফটকের পাশের এই ময়লার ভাগাড়ও কি পরিষ্কার করা হবে?
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু সচেতনতামূলক প্রচারণা বা ব্যক্তিগত বাসাবাড়ি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিলেই হবে না; পৌরসভার নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও কার্যকর করতে হবে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনে ময়লা ফেলা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং সড়কের পাশে ময়লা ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা—পৌরসভার চোখের সামনে থাকা এই ময়লার ভাগাড় কবে পরিষ্কার হবে এবং ডাম্পিং স্টেশন থাকা সত্ত্বেও সড়কের পাশে ময়লা ফেলার প্রবণতা কবে বন্ধ হবে?
