জামালপুরে ধর্ষণ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদন্ড
শহর প্রতিনিধি:
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে নিজ ঘরে এক গৃহবধূর ছবি বিকৃত করে ব্যাল্কমেইল ও একাধিকবার ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নিমাইমারী গ্রামের আশকর আলী (৪০) এবং জাহিদুল ইসলাম (৩৫)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক মামলার বিবরণ তুলে ধরে জানান, ২০২২ সালের ৩১ মার্চ রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নিমাইমারী গ্রামের ভুক্তভোগী গৃহবধূকে (৪০) তার নিজ ঘরে একা পেয়ে ইচ্ছর বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন একই গ্রামের আশকর আলী ও জাহিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী নারী এবং আসামিরা একই গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা ওই গৃহবধূকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী তা প্রত্যাখ্যান করলে আসামীরা তাঁর ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর ছবি তৈরি করেন। পরবর্তীতে সেই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং সন্তান ও স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়ে ওই নারীকে ইচ্ছর বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
ফজলুল হক আরো জানান, জাহিদুল ইসলামের সহায়তায় আশকর আলী আবারও ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে ফিরে দেখতে পেয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই এলোপাতাড়ি মারধর করেন। ডাকচিৎকার শুনে এক প্রতিবেশী এগিয়ে এলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। আসামিরা সে সময় মুঠোফোনে ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।
এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল ভুক্তভোগী গৃহবধূর ছেলে বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আশকর আলী ও জাহিদুল ইসলামের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই সর্বোচ্চ সাজার রায় প্রদান করেন এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম।
