জামালপুরে অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
শহর প্রতিনিধি:
জামালপুর পৌর শহরের কাচারিপাড়ার স্বপ্নপূরী আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ইসরাত জাহান রিমা (২৫) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ইশরাত জাহান রিমা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি পন্ডিতপাড়া এলাকার মো. রশিদুল্লাহ মন্ডলের মেয়ে। সে জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসরাত জাহান রিমা যে কক্ষে থাকতেন, সেই কক্ষের দরজা দুই থেকে তিন দিন ধরে বন্ধ ছিল। শুক্রবার রাতে শহরের দক্ষিণ কাচারিপাড়া স্বপ্নপুরী আবাসিক এলাকার একটি বদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশকে খবর দেয় পাশের রুমের ভাড়াটিয়া। খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানার পুলিশ এবং ফায়ারসার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ওই শিক্ষার্থীর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
সানজিদা আফরিন নামে তার এক সহপাঠী বলেন, রিমার একটি ছেলে সন্তান আছে। ওই সন্তান তার প্রথম স্বামীর কাছে থাকে। রিমার দ্বিতীয়বার বিয়ে হয় মাদারগঞ্জের তালুকদারবাড়ির শুভর সঙ্গে।
বাড়ির মালিক মোবারক হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চার মাস আগে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। আশেক মাহমুদ কলেজে ইংরেজিতে পড়তো তার স্বামীর নাম শুভ।
তবে নিহত রিমার বাড়ি মাদারগঞ্জ নাকি ইসলামপুর উপজেলায়, তা নিয়ে পুলিশের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, রিমা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, সেই বাড়ির রেজিস্টারে তার বাড়ি মাদারগঞ্জ উপজেলা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তার কক্ষে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রে বাড়ি ইসলামপুর উপজেলা লেখা রয়েছে। তার প্রকৃত ঠিকানা কোনটি, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ্ বলেন, রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কক্ষের তালা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ইশরাত জাহান রিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তিনি দুই থেকে তিন দিন আগে মারা গেছেন। মরদেহ ফুলে গেছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
