৮নং ওয়ার্ডকে আধুনিক, নিরাপদ ও মানবিক করতে চান আব্দুল আজিজ মাদক-সন্ত্রাস প্রতিরোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

মো. রুহুল আমিন রাজু, জামালপুর প্রতিনিধি:
আসন্ন মেলান্দহ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ। ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে গণসংযোগ ও মতবিনিময়কালে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ও সড়ক উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, মাদক-সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং অসহায় মানুষের পাশে থাকার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
আব্দুল আজিজ বলেন, “আমি একটি আদর্শ ৮নং ওয়ার্ড গড়ে তুলতে চাই। মাদকে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান থাকবে কঠোর। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিকভাবে অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করতে চাই।”
অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সহযোগিতা করবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাউন্সিলর হিসেবে প্রাপ্য মাসিক সম্মানী ভাতার অর্থ থেকে অসহায় ও দরিদ্র, মেধাবী ছাত্র /ছাত্রীদের ফরম পূরণে সহযোগিতা করে ও মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি পাঁচ বছর সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ না করে জনগণের সেবা ও এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গে আব্দুল আজিজ জানান, ১৯৯৪ সালে মেলান্দহ সরকারি কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরবর্তীতে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বলে দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক মামলায় ১৬ দিন কারাভোগ এবং দীর্ঘ সময় হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও জানান তিনি।
নাগরিক সমস্যা সমাধানে জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার, অলিগলির উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কবাতি স্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হতে চাই না; আমি ৮নং ওয়ার্ডের প্রতিটি নাগরিকের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে চাই।”
জন্মনিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদসহ পৌরসভার বিভিন্ন সেবা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করা এবং সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, উন্নয়ন শুধু রাস্তা-ড্রেন নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদ পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা সহজীকরণও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে ৮নং ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, মানবিক ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।
