উপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

দেলোয়ার হোসেন চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় শ্যামপুর ইউনিয়ন ভোটাররা

জামালপুর প্রতিনিধি :
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ, হামলা-নির্যাতন এবং রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ছাত্রনেতা মোঃ দেলোয়ার হোসেন। ত্যাগ, সাহসিকতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ১১নং শ্যামপুর ইউনিয়নে তিনি এখন ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে দেখতে চায় ইউনিয়ন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ।
ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত দেলোয়ার হোসেন ঢাকার রাজপথে দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা টিমের প্রধান সমন্বয়ক এবং নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটির সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে বারবার প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন। ২০১৭ সালে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনকালে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল প্রায় এক বছর কারাবরণ করেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময় গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করেও রাজপথে সক্রিয় থাকেন। এসব ত্যাগ ও সংগ্রামের কারণেই দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন পরীক্ষিত ও নির্ভীক নেতা হিসেবে পরিচিত।
দেলোয়ার হোসেনের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ও সমৃদ্ধ। তার পিতা মরহুম সাইদুর রহমান (দুদু খলিফা) থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। পিতার রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে তিনি নিজ এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার ব্যাপক সম্পৃক্ততা। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন, শীতবস্ত্র ও ঈদ উপহার বিতরণ, বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
বর্তমানে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, হাট-বাজার ও ওয়ার্ডে নিয়মিত গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও উঠান বৈঠক করছেন। স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন, এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করছেন এবং উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এ কারণে দিন দিন তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দেলোয়ার হোসেন একজন সৎ, ত্যাগী, কর্মীবান্ধব ও জনসম্পৃক্ত নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি কখনো মাঠ ছেড়ে যাননি। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে সক্রিয় থেকেছেন এবং দলীয় কর্মীদের পাশে থেকেছেন। ফলে চেয়ারম্যান পদে তাকে দেখতে চাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।
সাধারণ ভোটারদের মতে, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে তিনি ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার, কৃষকদের কল্যাণ, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। শ্যামপুর ইউনিয়নের জনগণ যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন, তাহলে একটি আধুনিক, উন্নত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, কারাবরণ, হামলা-নির্যাতন সহ্য করেও রাজপথে সক্রিয় থাকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দেলোয়ার হোসেন আজ শ্যামপুর ইউনিয়নের মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। ফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তাকে ঘিরে প্রত্যাশা ও আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *