মেলান্দহ আওয়ামী লীগ থেকে বকর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
মোঃ রুহুল আমিন রাজু জামালপুর জেলা প্রতিনিধিঃ জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফকির আবু বকর সিদ্দিক।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা সদরে তার নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ফকির আবু বকর সিদ্দিক আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
আবু বকর সিদ্দিক উপজেলার ৫নং নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে আওয়ামী লীগের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকব না।’
তিনি জানান, ‘একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি স্বেচ্ছায় মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং দলীয় সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।’
ফকির আবু বকর সিদ্দিক দাবি করেন, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে বিষয়টি তখন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার অবস্থান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন স্পষ্ট করলেন
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা দিয়ে ফকির আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে তিনি ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। । সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৮৭ সালে তিনি মেলান্দহ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হন। পরবর্তীতে যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পরে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে তিনি ৫নং নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। ওই পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নয়ানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকা কালীন সময়ে তখনকার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মান্নান এর কাজ গোল্ড মেডেল পুরস্কার লাভ করেন।
ফকির আবু বকর সিদ্দিক বলেন আমি মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি থাকা কালীন সময়ে আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় আওয়ামী লীগ। আমি আহত অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হই। তখন বিএনপির সভাপতি ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। হাসপাতালে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আমাকে দেখতে যান এবং আমার চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। তখন বেগম জিয়ার সাথে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে আমি মামলা মোকদ্দমার সম্মুখীন হই এবং বাধ্য হয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করি।
