ইসলামপুরে আইএইচটি’তে ছয় বছরেও স্থায়ীভাবে নিয়োগ হয়নি শিক্ষক-কর্মচারী
কাফি পারভেজ, জামালপুর প্রতিনিধি:
ইসলামপুরে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) ২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরু হলেও গত ছয় বছরেও এই প্রতিষ্ঠানটিতে ¯’ায়ীভাবে নিয়োগ হয়নি শিক্ষক-কর্মচারী। ফলে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া এবং অতিথি শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। এমনকি কর্মী নেওয়া হয় অস্থায়ী ভিত্তিতে আউটসোর্সিংয়ের।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠানটির ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৮ সালের ২নভেম্বর স্বাস্থ্য প্রকৌশলের বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু করা হয় পাঠদান কার্যক্রম। এ সময় দুটি বিভাগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করলেও পরে আরও দুটি বিভাগ চালু করা হয়। বর্তমানে ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং, ফার্মেসি এবং ডেন্টাল এ চারটি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স চালু রয়েছে।
এসব বিভাগের সাড়ে ৫০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হয় অতিথি শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও ক্লিনিকে কর্মরত টেকনোলজিস্টদের দিয়ে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১০ জন শিক্ষক ও ১৮ জন কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু স্থায়ীভাবে কোনো পদেই নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ১০ জন শিক্ষকের বিপরীতে ১০ জনই অতিথি শিক্ষক রয়েছেন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছে ১৮ জন কর্মচারী। তবে কর্মচারীরা আট মাস ধরে তাঁদের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। প্রেষণে নিয়োগ হয়েছে চারজন শিক্ষক।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, ইসলামপুর পৌর শহরের ধর্মকুড়া এলাকায় হামিদ আলী মাঠে আইএইচটির ক্যাম্পাস। অন্তত আধা ডজন নির্মিত বহুতল ভবন আকাশপানে উঁকি মারছে। ক্যাম্পাসে প্রবেশপথে নির্মাণ করা হয়েছে নিরাপত্তাবেষ্টনীসহ ফটক। ক্যাম্পাসের শোভা বর্ধনে করা হয়েছে বিভিন্ন জাতের ফুলের বাগানসহ শোভাবর্ধক গাছ। রয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে পৃথক ছাত্রাবাস।
ইসলামপুর পৌর শহরের বাসিন্দা আইনজীবী মুহাম্মদ মানিক মিয়া বলেন, বিশেষ করে স্থায়ীভাবে জনবল নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থায়ী নিয়োগ হলে আইএইচটির যথাযথ সুফল বয়ে আনবে।
ইসলামপুর আইএইচটির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ১০ জন শিক্ষকসহ ২৮ জন কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ১০ জন অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া ১৮ জন কর্মচারী আট মাস ধরে তাঁদের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।
ইসলামপুর আইএইচটির উদ্যোক্তা, ধর্মমন্ত্রী (জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য) মো. ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, আইএইচটিতে স্থায়ীভাবে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। শিগগির যেন শিক্ষকসহ কর্মচারী স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া যায়, তার চেষ্টা চলছে।
