উপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

পশ্চিম ছবিলাপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের উপর হামলা, ভাংচুর লুটপাট গুরতর৷ আহত-২


মোঃ রুহুল আমিন রাজু, জামালপুরঃ জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ছবিলাপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের উপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়ে বাড়ীঘরে লুটপাট, বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে দেওয়া, নগদ টাকা ও স্বর্ণ অলংকার লুটপাট করা এবং মারধোর করে একজনকে মাথায় আঘাত ও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে ও এক মহিলার মেরুদণ্ডের হাড়ের অপারেশন করে বসানো ইমপ্লিমেন্টের স্হানচূত্য করে দিয়েছে একই এলাকার বাসিন্দা প্রতিপক্ষ চাড়ালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, আমজাদ আলী ওরফে দালো, শাহাজ উদ্দিন, আক্তার মিয়া,সরুজ মিয়া,জগলু মিয়া,আনোয়ার বেগম, ছোরাইয়া বেগম গংরাসহ আরো অজ্ঞাত৩/৪ জনের একটি সংঘবদ্ধদল। এতে একই পরিবারের স্বামী -স্ত্রীসহ গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে প্রথমে মেলান্দহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে অবনতি হলে ডাক্তারা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গুরুতর আহতরা পশ্চিম ছবিলাপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল হোসেন(৮০) ও স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৭২) তাদের কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়

ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ছবিলাপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল হোসেন এর সাথে একই এলাকার পাশাপাশি চাড়ালকান্দি বাড়ির বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, আমজদ আলী দালো,শাহাজ উদ্দিন, আক্তার মিয়া,জগলু মিয়া,সুরুজ মিয়া গংদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল একই এলাকার আবুল হোসেনের সাথে। এই বিরোধের জের ধরে গত ২৫/০২/২০২৬ তারিখে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেন, আমজাদ আলী দালো গংরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অপর প্রতিপক্ষ আবুল হোসেনের বসত বাড়ীতে অনাধিকার প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে ইটের বাউন্ডারি ওয়াল ভাংচুর করে এক লাখ টাকা ক্ষতি সাধন করে। এ সময় আবুল হোসেন বাধা দিতে গেলে তাঁকে বিবাদীগণ প্রথমে কিল,ঘুষি মারিয়া মারে এবং দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে তার মাথায় কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত আঘাত করে এছাড়াও লোহার রড,লাঠি দিয়ে তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নীলাফুলা করে জখম করে। এ সময় তাঁর স্ত্রী রেজিয়া বেগম তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে বিবাদীগণ রেজিয়া বেগমের কাপড়চোপড় ধরিয়া টানা হেচরা করে এবং তার গলায় থাকা ২ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন গলা হইতে ছিঁড়িয়া নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যাহার আনুমানিক মূল্য ৩,৮০,০০০/টাকা। এছাড়াও বিবাদীগণ রেজিয়া বেগম কে ধরে উপরে তুলে আছাড় মারে ফেলে দেয় যার ফলে তাঁর মেরুদণ্ডের একাধিক হাড় ও মেরুদণ্ড হাড়ের অপারেশন করে বসানো ইমপ্লিমেন্ট স্হানচূত্য হয়ে যায় এতে সে মারাত্মক গুরুতর আহত হয়। এ সময় বিবাদীগণ বসত ঘরে ঢুকে স্টীলের আলমারি থেকে নগদ ৫,২০,০০০/-টাকা ও আরো ২ ভরি ওজনের সোনার বালা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যায় যাহার আনুমানিক মূল্য ৩,৮০,০০০/-টাকা। এ সময় বিবাদীগণ আহতদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে, পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হইয়া পড়িলে ৯৯৯ তাৎক্ষণিক ভাবে কল করা হলে মেলান্দহ থানার পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্হলে পৌঁছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও আহতদের রক্তাক্ত জখম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য৷ মেলান্দহ সরকারি হাসপাতালে পাঠান। এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার বাদী হয়ে আহতদের ছেলে রুহুল আমিন বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন যাহার মামলা নং ০১/০৩/২০২৬ ইং ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৩৪২/৪২৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়েছে। পুলিশ আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা করলেও ১ নং আসামি আনোয়ার হোসেন এখনো পলাতক রয়েছে। ২নং আসামি আদালতে আত্মসর্মপন করে জেল হাজত গেলেও বর্তমানে জামিনে মুক্তি পেয়েছে আর বাকী আসামিরা আগেই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এদিকে ২নং আসামি আমজাদ হোসেন দালো জামিনে মুক্তি পেয়েই বাড়িতে এসে বাদী পক্ষ কে আবারো হুমকি ধামকী প্রদর্শন করছেন মামলা তুলে দিতে আর বাদী পক্ষকে তাদের এলাকায় যেতে নিষেধ করে দিয়েছেন যাতে বাদী পক্ষ তাঁর নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারে। এমতাবস্থায় বাদী পক্ষ আবুল হোসেন ও তার পরিবার নিজ এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছে এমন অভিযোগ করেন ভোক্তাভোগীর পরিবার। তারা এখন সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকাছাড়া হয়ে অনত্র পালিয়ে আছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদীপক্ষ। এ বিষয়ে বাদী পক্ষ মেলান্দহ থানার ওসি জামালপুরের পুলিশ সুপারসহ, মাননীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *