উপজেলার সংবাদজামালপুরসদর

বাংলাদেশ পুলিশ ও UNFPA-এর উদ্যোগে মেলান্দহে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত


জামালপুর প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ পুলিশ ও UNFPA-এর যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন PREVAIL (Prevention and Response to Violence Against Women through Improved Access to Justice and Services) প্রকল্পের আওতায় জামালপুরের মেলান্দহে কমিউনিটি পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধ বিষয়ক এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবায়দুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদারগঞ্জ সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাবেক সফল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুর রহমান ঠান্ডা এবং কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ্জামান সুরুজ। বক্তব্য রাখেন মেলান্দহ থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই সাফিয়া আক্তার প্রমুখ।
মেলান্দহ থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সহযোগিতা করে জেলা পুলিশ, জামালপুর এবং UNFPA বাংলাদেশ। সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, গণ্যমান্য ব্যক্তি, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পুলিশ নারী হেল্প ডেস্কের কার্যক্রম, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, পারিবারিক সহিংসতা, সাইবার হয়রানি এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের সকল মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতামুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা শুধু একটি ব্যক্তি বা পরিবারের সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। PREVAIL প্রকল্প জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশি সেবার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ নারী হেল্প ডেস্ক নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও আস্থার জায়গা। যেকোনো ধরনের নির্যাতন, হয়রানি বা সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে পুলিশের সহযোগিতা গ্রহণ করেন, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, “একটি সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গঠনে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণ ও পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতাই পারে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে।”
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়। এ সময় পুলিশ নারী হেল্প ডেস্কের সেবা গ্রহণের পদ্ধতি, অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া, আইনি সহায়তা প্রাপ্তির উপায় এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক সভা ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে, সামাজিক অপরাধ কমে আসবে এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আরও শক্তিশালী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *