জামালপুরে পৃথক দুই মামলায় ১ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের বকশিগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদন্ড ও এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরীকে অপহরণের দায়ে ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে হত্যা মামলায় স্বামীকে ৫ লাখ টাকা ও অপহরণ মামলায় ১জনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী হাফিজুল জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর এলাকার মৃত মো. প্রধানের ছেলে এবং অপহরণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী শামীম, সাদেক এবং জালাল মিয়া জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ও বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০১২ সালে বকশিগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের মেরুরচর গ্রামের বাসিন্দা মৃত প্রধান মিয়ার ছেলে হাফিজুল হক প্রেমের সম্পর্কের পর ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার হুনুফা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে হুনুফার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে যৌতুকের দাবিতে গ্রহবধু হনুফা বেগমকে মারধর করে হত্যা করে তার স্বামী হাফিজুল। খবর পেয়ে গৃহবধূর পরিবার ভোলা থেকে এসে মরদেহ নিয়ে যায়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর বকশিগঞ্জ থানায় গৃহবধূর মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৭জনের স্বাক্ষ্য ও প্রমান শেষে আদালত গৃহবধূর স্বামীকে মৃত্যুদন্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। ৪জনকে খালাস প্রদান করেন।
এ্যাডভোকেট ফজলুল হক আরো জানান, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকালে সেই সময়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী বাড়ি থেকে প্রাইভেটে যাবার সময় হরিপুর এলাকা থেকে অপহরন করে আসামীরা। এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে জামালপুর থানায় অভিযোগ করলে গাজীপুর জেলা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। সেই মামলায় ৭জনের স্বাক্ষ্য ও প্রমান শেষে শামীম, সাদেক এবং জালাল মিয়া এ তিনজনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয় আদালত এবং আসামী জালালকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
রায়ে সন্তষ্টি প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ।
