উপজেলার সংবাদজামালপুরসদর

জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারে জলাবদ্ধতায় ১৩৭টি মাতৃ লিচু গাছ মারা গেছে

কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুর শহরের চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ২৫ একর আয়তনের হর্টিকালচার সেন্টারে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো ১৩৭টি মাতৃ লিচু গাছ মারা গেছে। এতে উন্নত জাতের লিচুর চারা উৎপাদন বন্ধ হয়ে সরকারের রাজস্ব আয় ব্যাহত হচ্ছে।
হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় ১০ একর এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকায় ১৩৯টি মাতৃ লিচু গাছের মধ্যে ৬০ বছরের পুরনো ১৩৭টিই নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে আম, ড্রাগনসহ অন্যান্য মাতৃবাগানও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণেই মূল্যবান এসব গাছ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ১০ একর জায়াগজুড়ে পানি জমে থাকে। অন্যান্য মাতৃবাগানের তুলনায় লিচু গাছের মাতৃবাগান বেশ বড় ও পুরাতন। চারা উৎপাদন ও বানিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য ১৩৯টি মাতৃ লিচু গাছ রয়েছে বাগানে। এখন মাতৃ লিচু বাগানটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। এখানে নেই কোন কাজের ব্যস্ততা। নেই গাছের কোনো পরিচর্যা। শুধু লিচু বাগান নয়, দীর্ঘ জলাবদ্ধতার কারণে পাশের আম, ড্রাগনসহ অন্যান্য গাছের মাতৃবাগানও হুমকির মুখে রয়েছে। মাতৃ লিচু গাছ মরে গিয়ে চারা উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বছরে লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে শুধু মাতৃ লিচু বাগানই নয়, উৎপাদিত চারাও নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জামালপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক জানান, মাস্টার ড্রেনের অভাবেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। কোভিড ১৯ প্রজেক্ট থেকে শহরের আনসার ক্যাম্প থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন ড্রেনের কাজটি শেষ হলে হর্টিকালচার সেন্টারের পানি নেমে যাবে। আরও তিনটি ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *