উপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

মেলান্দহের দ্বিতীয় সাদিপাটিতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কলাবাগান ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের ২নং সাদিপাটি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে কলাবাগান ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে একই গ্রামের মৃত শমশের আলীর ছেলে মো. বেলাল হোসেন বালা মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বেলাল হোসেন বালা উল্লেখ করেন, একই গ্রামের মো. খোরশেদ আলম কালু (৫৫), মোহাম্মদ আলী ঠান্ডা, শফিকুল ইসলাম জম্মত (৪০), আসমত আলী (৩২) ও আছান আলী (২৮)-এর সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে।
লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, দা ও কুড়াল নিয়ে তার বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে পূর্ব শত্রুতার জেরে রোপণ করা কলাগাছ, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলে। এতে তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গাছ কাটার বিষয়টি টের পেয়ে তিনি ও তার স্বজনরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বেলাল হোসেন বালা জানান, উক্ত জমি তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। জমিটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হলে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৪৩৩/২০২৩ বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন। এছাড়া প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলাও বিচারাধীন এবং সাক্ষ্য গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি করেন।
তিনি অভিযোগে আরও বলেন, মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ তার জমি দখল ও ফসল বিনষ্টের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গাছ কেটে ক্ষতি সাধনের ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে জমিতে গেলে বাধা দিতে গিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুন-জখমসহ শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।
অভিযোগে উল্লেখিত তফসিল অনুযায়ী, নালিশি জমিটি জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানাধীন জেএল নং-১৪ মৌজায় অবস্থিত। আরআর খতিয়ান নং-১২২, বিএস/বিআরএস খতিয়ান নং-৭৩১, সাবেক দাগ নং-১০২৯/১০৩০ এবং বিএস/বিআরএস দাগ নং-১৯৪৭/১৯৩০-এ মোট ৬৬ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। চলমান মামলায় উভয়পক্ষ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে মর্মে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আদালত অবমাননার দায়ে ভাইলেশন মামলা চলমান রয়েছে। সামনে মামলার সাক্ষী গ্রহণের অপেক্ষায় আছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার এসআই কামরুজ্জামান জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনাটি সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *