বিদ্যালয়ের টিফিনে কাঁচা ডিম পচা কলা ও শক্ত পাউরুটি দেওয়ার অভিযোগ
কাফি পারভেজ, স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টিফিন সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধ ডিম, ভালো মানের কলা ও পাউরুটি দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে কাঁচা ডিম, কাঁচা বা পচা কলা এবং শক্ত পাউরুটি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের হাতে কাঁচা ডিম তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ে সিদ্ধ করার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ডিম ব্যাগে করে বাড়ি নিয়ে যায়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারের লোকজন শিশুদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে আস্ত কাঁচা ডিম। এতে ডিম ভেঙে বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী আকারে ছোট কাঁচা ও পচা কলা এবং শক্ত পাউরুটি পাওয়ার অভিযোগ করেছে।
গোপালপুর সূর্যনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কাঁচা ডিম ব্যাগে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে অনেক সময় ভেঙে যায়। কলার মান নিয়েও তারা অভিযোগ করে।
রামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমরা কাঁচা ডিমের পক্ষে নই। কাঁচা ডিম দিলে শিশুরা ভেঙে ফেলে। বিষয়টি সরবরাহকারীদের জানানো হয়েছে।
টিফিন সরবরাহকারী ঠিকাদার ও বকশিগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাকিল তালুকদার বলেন, আমি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স এই টিফিন বিতরণের দায়িত্বে রয়েছি। ১১০টি বিদ্যালয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার কলাসহ পাউরুটি ও সিদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হয়। তাঁর দাবি, কলা পচনশীল হওয়ায় বিপুল পরিমাণের মধ্যে দু-একটি কাঁচা বা নষ্ট হতে পারে। কোনো বিদ্যালয়ে সমস্যা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
বকশিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স জানান, বর্তমানে টিফিন সরবরাহের দায়িত্বে শাকিল তালুকদার রয়েছেন।
বকশিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান রেজাউল করিম বলেন, টিফিনে সিদ্ধ ডিম, ভালো মানের কলা ও পাউরুটি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
