উপজেলার সংবাদজামালপুরমেলান্দহ

মেলান্দহ পৌর প্রশাসক জিন্নাতুল আরার হাত ধরে বদলে যাচ্ছে মেলান্দহ পৌরসভা

মোঃ রুহুল আমিন রাজু, জামালপুর প্রতিনিধি:

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি পেয়েছে জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভা। সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ উন্নয়ন, সড়কবাতি স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং, জননিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা চালু করা এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণ—বিভিন্ন উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে মেলান্দহের পৌর এলাকার চিত্র। পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নিয়মিত নজরদারিতে এসব কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

দীর্ঘদিনের নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় সড়কবাতি স্থাপন এবং নষ্ট বাতি সংস্কারে রাতের মেলান্দহও হয়ে উঠছে আরও আলোকিত ও নিরাপদ।

সড়ক উন্নয়নে স্বস্তি পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কার ও মেরামত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারের ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের দুর্ভোগ কমছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

ড্রেনেজে কমবে জলাবদ্ধতা পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যা নিরসনে নতুন ড্রেন নির্মাণ ও পুরোনো ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত নজরদারিও করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও নাগরিক ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

পরিচ্ছন্নতায় বাড়ছে তৎপরতা পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গড়তে নাগরিক সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সিসিটিভিতে বাড়ছে নিরাপত্তা মেলান্দহ বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন পৌরবাসী।

পাশাপাশি বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

মাদক-বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সক্রিয় প্রশাসন অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধেও রয়েছে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান। মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সচেতন নাগরিকদের মতে, উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ একটি সুন্দর ও নিরাপদ পৌর সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবায় অগ্রাধিকার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যাতে অযথা হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

জিন্নাতুল আরা: ‘নাগরিক সেবা সহজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য’ মেলান্দহ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিন্নাতুল আরা বলেন, “পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মেলান্দহ পৌরসভাকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সড়ক, ড্রেনেজ, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, সেটি নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। মাদক, বাল্যবিবাহসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।”

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চান পৌরবাসী স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তারা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন।

তাদের প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং এর সুফল পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

সচেতন মহলের মতে, দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানবিকতা ও উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে জিন্নাতুল আরার তত্ত্বাবধানে মেলান্দহ পৌরসভায় যে পরিবর্তনের ধারা তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এটি একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, আলোকিত, নিরাপদ ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা হিসেবে গড়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *